আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় রক্ষায় শিক্ষামন্ত্রীর দ্বারস্থ সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য

Spread the news

২৫ আগস্ট : আসাম বিশ্ববিদ্যালয় (শিলচর)-এর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন শিলচর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য। বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠনের (KVS) অধীনে এটিকে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। মঙ্গলবার বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান সাংসদ।

সাংসদ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দেওয়া আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, ‘প্রজেক্ট মোড’-এ পরিচালিত বিদ্যালয়টির বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৩ কোটি টাকা। আর্থিক সংকটের কারণে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এই ব্যয়ভার বহন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। পরিমল শুক্লবৈদ্য বলেন, এই বিদ্যালয় শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বরাক উপত্যকার বহু পরিবার ও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে পশ্চিম জালেঙ্গা, রোজকান্দি, বড়জালেঙ্গা, দার্বি, অ্যালেনপুর, শিলকুড়ি, ভরাখাই, বিনোদনগর, কৈলাসপুর ও আইরংমারাসহ আশপাশের চা-বাগানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের সন্তানদের কাছে বিদ্যালয়টি মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়।

তিনি জানান, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫০ জন নিয়মিত শিক্ষক এবং ৩০০ জন নিয়মিত অশিক্ষক কর্মচারীর সন্তানদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিদ্যালয়টির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গ্রামীণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বহু পরিবার এই বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর ৯০০-রও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে বালভাটিকা-III থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। তাঁদের জন্য রয়েছেন ১৪ জন নিয়মিত ও ৯ জন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক। সাংসদের মতে, শুধুমাত্র আর্থিক সমস্যার কারণে বিদ্যালয়টি বন্ধ হলে বহু শিশুর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ইতিমধ্যেই রয়েছে উল্লেখ করে পরিমল শুক্লবৈদ্য কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠনের অধীনে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানান। বৈঠক শেষে সাংসদ জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পরিমল শুক্লবৈদ্য বলেন, “একটি বিদ্যালয়কে রক্ষা করা মানে শুধু একটি ভবনকে রক্ষা করা নয়; এর সঙ্গে হাজারো শিশুর স্বপ্ন এবং অসংখ্য পরিবারের আশা জড়িয়ে রয়েছে। অর্থের অভাবে কোনো শিশুর শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *