মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৫ আগস্ট : পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের বাজারিছড়া এলাকার ছাগলমোহা গ্রামে বিজেপির বুথ সভাপতি বিকাশ ধরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনায় এখনও শোক ও উত্তেজনার আবহ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াল করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস।
মঙ্গলবার জেলা কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল ছাগলমোহায় বিকাশ ধরের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার পর পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি ও তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন নেতৃবৃন্দ। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সব ধরনের মানবিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
এরপর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও দেখা করেন। এলাকায় সৃষ্ট অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের কাছ থেকে তাঁদের ব্যবসায়িক ক্ষয়ক্ষতি ও বর্তমান পরিস্থিতির কথা শোনেন কংগ্রেস নেতারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী, উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমেদ পান্না এবং করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ। তাঁদের সঙ্গে জেলা কংগ্রেসের অন্যান্য নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, বিজেপির বুথ সভাপতি বিকাশ ধরের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। তাঁর কথায়, কোনো ঘটনা যেন সমাজে বিভাজন বা নতুন করে অশান্তির সৃষ্টি না করে, সেজন্য সবাইকে শান্তি, সংযম ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।
কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও মানুষের বিপদের সময়ে মানবিকতার পরিচয় দেওয়াই প্রকৃত দায়িত্ব। প্রতিহিংসা বা বিভাজনের পরিবর্তে আইন ও প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বিকাশ ধর হত্যাকাণ্ডের বিচার ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের পাশাপাশি বাজারিছড়া ও সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপরও গুরুত্ব দেন কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের সফর থেকে মূলত উঠে আসে—শোকের সময়ে প্রতিহিংসা নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা; বিভাজন নয়, প্রয়োজন সম্প্রীতি এবং উত্তেজনার পরিবর্তে প্রয়োজন শান্তি।



