৯ আগস্ট : নিটের প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং পদত্যাগ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ভুবনেশ্বরের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি নিট আন্দোলনকে (NEET protest) কেন্দ্র করে দেশের ‘জেন জেড’ বা তরুণ প্রজন্মকে (Gen Z) রাজনৈতিক স্বার্থে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী।উত্তরবঙ্গ সংবাদ সাবস্ক্রিপশন
২৫ জুলাই মন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া ধর্মেন্দ্র প্রধান স্পষ্ট জানান, পদ বা ক্ষমতা তাঁর কাছে কখনই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আন্দোলন চলাকালীন তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে গিয়ে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ভারতে কোটি কোটি শিশুর জন্ম হয়। এদের সবারই নিজেদের স্বপ্ন রয়েছে। ভারত গঠনে এই তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ওরা আমাদেরই সন্তান, কিন্তু কিছু মানুষ নিজের স্বার্থে ওদের ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করেছিল।’
একই দিনে অন্য একটি জনসভায় ওডিশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেডি সভাপতি নবীন পট্টনায়ককেও তীব্র আক্রমণ করেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। সম্প্রতি তাঁর ওডিশা সফরের সময় বিজেডি যুব ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান গো ব্যাক’ স্লোগান তোলা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি কৃষকের ছেলে। বারবার গো ব্যাক বললেও আমি জনগণের স্বার্থে ফিরে আসব। আমি হয়তো রাজ্যের জন্য গৌরব বয়ে আনছি না, কিন্তু আমি আমার কাজের দ্বারা কখনও মানুষকে অসম্মান করিনি। আমি এমন কোনও কাজ করব না যা রাজ্যের সুনাম নষ্ট করবে।’
অন্যদিকে, বিজেডির রাজ্য নেতৃত্ব ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে। বিজেডি নেতা রোহিত পূজারী পাল্টা দাবি করেন, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ভুল নীতি এবং নিট পরীক্ষার অচলাবস্থার কারণে দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবার চরম মানসিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যন্তর মন্তরে আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে, এর পেছনে বিরোধী দলের কোনও উসকানি নেই। সব মিলিয়ে, পদত্যাগের প্রায় দু’সপ্তাহ পর ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।



