২৩ সেপ্টেম্বর : করম ধরম পুজোর ডালি বিসর্জন দিতে গিয়ে ঝাড়খণ্ডের পালামু জেলায় কোয়েল নদীতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। জলে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এখনও এক শিশু নিখোঁজ। বুধবার সকালে চ্যানপুর থানার অন্তর্গত পতরিয়া খুর্দ গ্রামে এই ঘটনায় উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হয় শোকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, করম পুজো উপলক্ষে গ্রামের কয়েকজন শিশু করমের ডালি নিয়ে কোয়েল নদীতে বিসর্জন দিতে যায়। বিসর্জনের সময় আচমকা এক শিশু নদীর জলে তলিয়ে যেতে শুরু করে। তাকে বাঁচাতে অন্য শিশুরাও জলে নামে। কিন্তু বর্ষায় ফুলেফেঁপে ওঠা নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে তারাও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জলে ডুবে যায়।
নদীর কাছে থাকা এক মহিলা শিশুদের চিৎকার শুনে বিষয়টি দেখতে পান এবং গ্রামবাসীদের খবর দেন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে নেমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর চার শিশুর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পঞ্চম শিশুর সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে চ্যানপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহগুলি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। খবর পেয়ে ডালটনগঞ্জের বিধায়ক অলোককুমার চৌরাসিয়াও ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত শিশুদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এদিকে, পালামুরই পাটন থানার হিসরা বরওয়াডিহের নানি ঝরিয়া এলাকায় আরও একটি দুর্ঘটনায় ১৭ বছরের কিশোরী সিম্পি কুমারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করম পর্বের ঝুর বিসর্জন দিতে বন্ধুদের সঙ্গে জিঞ্জোই নদীতে গিয়েছিল সিম্পি। বিসর্জনের সময় নদীর গভীরে চলে গিয়ে সে তলিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিহারের ভাগলপুরেও করম পুজোর আচার পালনের সময় ছয়জন জলে ডুবে যায়। বর্ষার মরশুমে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের নদীগুলিতে জল ও স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিসর্জনের সময় সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা ফের সামনে এসেছে।



