মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ অক্টোবর : শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা শ্রীভূমি শহর। ভক্তি, শ্রদ্ধা, আনন্দ ও সম্প্রীতির এই উৎসবে সামিল হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের দুটি দুর্গাপূজা মণ্ডপের উদ্বোধন করলেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। এর আগে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র পাথারকান্দিতে দিনভর একাধিক দলীয় ও সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
দিনের কর্মসূচি সম্পন্ন করে রাতে নিজের গৃহশহর শ্রীভূমিতে পৌঁছে প্রথমে ইয়ুথ ইউনিটি ক্লাবের দুর্গাপূজা মণ্ডপের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, মা দুর্গার কৃপা ও আশীর্বাদে এমন এক পবিত্র ও আনন্দঘন মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন। দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা জানিয়ে তিনি কামনা করেন, মায়ের আশীর্বাদে মানুষের জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি দূর হোক এবং প্রত্যেকের জীবনে শক্তি, সাহস, আশা ও আনন্দের সঞ্চার ঘটুক। পাশাপাশি রাজ্যবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিও কামনা করেন তিনি।

এরপর মন্ত্রী শহরের শতাভিষা ক্লাবের দুর্গাপূজা মণ্ডপের উদ্বোধন করেন। সেখানে দুর্গোৎসবের সর্বজনীন আবেদন এবং সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভক্তি, আনন্দ, ঐক্য ও সৌভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। শারদোৎসবের এই আনন্দঘন পরিবেশে শ্রীভূমি শহর সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ছবি তুলে ধরছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উপস্থিত সকলকে শারদীয়ার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে কৃষ্ণেন্দু পাল কামনা করেন, মা দুর্গার আশীর্বাদে প্রত্যেকের জীবন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক। সমাজের প্রতিটি স্তরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার পাথারকান্দিতে দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচি পালনের পর রাতেও শ্রীভূমি শহরের দুর্গোৎসবে অংশ নিয়ে পরপর দু’টি পূজামণ্ডপের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। তাঁর এই উদ্যোগকে উৎসবের আবহে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ আরও নিবিড় করার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শ্রীভূমি পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রচন্দ্র দেব, জেলা বিজেপির সভাপতি সঞ্জীব বণিক, প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য, বিজেপি নেতা বিজু বণিক, আইনজীবী পরিতোষ পাল-সহ জেলা বিজেপির অন্যান্য কর্মকর্তা এবং দুই পূজা কমিটির কর্মকর্তারা।



