সমাজকর্মের ক্ষেত্রসমীক্ষা জোরদার করার ওপর কর্মশালা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩০ সেপ্টেম্বর : শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাকে সমাজ ও সম্প্রদায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে সমাজকর্ম শিক্ষায় ক্ষেত্রসমীক্ষার গুরুত্ব আরও জোরদার করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার একদিনের কর্মশালা আয়োজিত হয় আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সমাজকর্ম বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালার বিষয় ছিল ‘রিচিং ক্লাসরুম অ্যান্ড কমিউনিটি : স্ট্রেংদেনিং ফিল্ডওয়ার্ক প্র্যাকটিস’।

এদিন বিপিনচন্দ্র পাল মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক রাজীবমোহন পন্থ, যদুনাথ সরকার স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ডিন অধ্যাপক বিজয় কুমার বেহেরা, কর্ণাটক ওপেন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বিএস গুঞ্জাল, সমাজকর্ম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তরুণ বিকাশ সুকাই এবং কর্মসূচির সমন্বয়ক অধ্যাপক শুভব্রত দত্ত।

উপাচার্য অধ্যাপক পন্থ সমাজকর্ম শিক্ষায় ক্ষেত্রসমীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ক্ষেত্রই সমাজকর্ম অনুশীলনের পরীক্ষাগার। শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞানকে সমাজের বাস্তব পরিস্থিতি ও মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে ক্ষেত্রসমীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অধ্যাপক বেহেরা গ্রামীণ ভারতের ক্ষেত্রে সমাজকর্ম পেশার গুরুত্ব তুলে ধরে তৃণমূল স্তরের মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষিত সমাজকর্মীর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সুকাই ও দত্ত।

মূল পর্বে অধ্যাপক বিএস গুঞ্জাল দেশে সমাজকর্ম শিক্ষার ইতিহাস ও বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন। ১৯৩৬ সালে পেশাগতভাবে সমাজকর্ম শিক্ষার সূচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর বিকাশ এবং পেশাগত প্রশিক্ষণে ক্ষেত্রসমীক্ষার অপরিহার্য ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন। সমাজকর্ম অনুশীলনের বিভিন্ন ধাপ—সামাজিক সমীক্ষা, সামাজিক নির্ণয় ও সামাজিক চিকিৎসা—সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।  একইসঙ্গে তাত্ত্বিক জ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ব্যবধান দূর করতে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রসমীক্ষার অভিজ্ঞতা নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা এবং নির্ধারিত লক্ষ্যগুলি বাস্তবে কতটা অর্জিত হচ্ছে তা মূল্যায়নের পরামর্শ দেন। শেষে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন ড. ঋত্বিকা রাজেন্দ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *