বরাক তরঙ্গ, ২ জুলাই: বদরপুরের নাম পরিবর্তনের সম্ভাব্য উদ্যোগের বিরোধিতা করে বৃহস্পতিবার বদরপুরের নাগরিকদের একাংশ সার্কেল অফিসে বিক্ষোভ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি প্রদান করেন। সার্কেল অফিসারের মাধ্যমে জমা দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানানো হয়।
সার্কল অফিসে সমবেত হওয়া প্রতিনিধিদলের মধ্যে ছিলেন আইনজীবী লক্ষী দত্ত গুপ্ত, প্রাক্তন অধ্যক্ষ হিফজুর রহমান, প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুর রজ্জাক, সমাজকর্মী মইনুল হক, মুস্তাফা আহমেদ, কয়সর আহমেদ, আশুক উদ্দিন, বিভাস চন্দ, মসরুল ইসলাম, মইনুল ইসলাম তালুকদার, ইসমাইল আলি, হারিস উদ্দিন এবং করিমগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তন প্রতিরোধ নাগরিক কমিটির কার্যকরী সদস্য প্রজ্জ্বল দেব-সহ অন্যান্যরা।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় বিধায়কের উদ্যোগে বদরপুর পুরসভার এলাকাকে নতুন নামে পুরসভা গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা কার্যত ঐতিহাসিক বদরপুরের নাম পরিবর্তনের প্রচেষ্টা। প্রতিনিধিদলের দাবি, শতাব্দীপ্রাচীন বদরপুর নামের সঙ্গে এলাকার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয় জড়িয়ে রয়েছে। তাই জনমতকে উপেক্ষা করে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত নয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বদরপুরের ইতিহাস কয়েক শতাব্দী প্রাচীন। ১৩শ শতাব্দী থেকে ‘বদরপুর’ নামের প্রচলন, ১৬১২ সালে বরাক নদীর তীরে বদরপুর ফোর্ট নির্মাণ এবং ১৮২৪ সালে কাছাড়ি রাজা গোবিন্দ চন্দ্র হাসনু ও ব্রিটিশ প্রতিনিধি ডেভিড স্কটের মধ্যে ‘ট্রিটি অব বদরপুর’ স্বাক্ষরের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলির উল্লেখ করে প্রতিনিধিদল দাবি করে, এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার শামিল।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, কোনও জেলা বা স্থানের নাম পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সর্বস্তরের জনগণ, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী বলেও দাবি করা হয়।
প্রতিনিধিদল আরও অভিযোগ করে, নাম পরিবর্তনের সঙ্গে জনস্বার্থ বা উন্নয়নের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সরকারি নথিপত্র পরিবর্তনের কারণে সাধারণ মানুষকে বাড়তি আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
স্মারকলিপিতে রাজ্য সরকারের কাছে বদরপুরের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এতে প্রদীপ ভট্টাচার্য, তরুণ গুহ, শংকু দাস, রঞ্জন দত্ত, আব্দুল কালাম, অঞ্জন আচার্য, রমিজ উদ্দিন চৌধুরী, বিমল দাস, অজয় দে-সহ আরও অনেকে স্বাক্ষর করেন।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আন্দোলনকারীরা জানান, নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি, ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।



