শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ১৭ আগস্ট : মানুষের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে লায়ন্স ক্লাব অব বদরপুর গ্রেটার, লায়ন্স আই হসপিটাল ও ভ্যালি স্ট্রং সিমেন্টের যৌথ উদ্যোগে কাটিগড়া সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল প্রাঙ্গণে সোমবার বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, ছানি শনাক্তকরণ ও মাইক্রোসার্জারি আইওএল শিবির অনুষ্ঠিত হয়। সহযোগিতায় ছিল কাটিগড়া সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল, যুব তারা শক্তি সংঘ কাটিগড়া ও বিদ্যালয়ের এনএসএস ইউনিট।
শিবিরে মোট ১৪৩ জন চক্ষু পরীক্ষা করান। বিস্তারিত পরীক্ষায় ৩০ জনের চোখে ছানি শনাক্ত হয়। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানে বিনামূল্যে মাইক্রোসার্জারি ও আইওএল (Intraocular Lens) প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪২ জনের চোখে পাওয়ারের সমস্যা ধরা পড়ে এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। লায়ন্স ক্লাব অফ বদরপুর গ্রেটারের চলতি লায়নস্টিক বছরে এটি ছিল দ্বিতীয় চক্ষু শিবির। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর বদরপুর টেনিস গ্রাউন্ড সংলগ্ন অখণ্ড মণ্ডলীতে তৃতীয় চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত হবে বলে উদ্যোক্তারা জানান।

শিবিরে লায়ন্স ক্লাব অফ বদরপুর গ্রেটারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মুকেশ আগরওয়াল, তিনি বিভিসিএল-এরও সিইও, এবং ক্লাবের বর্ষীয়ান কর্মকর্তা প্রদীপ্ত কুমার দে, সুজিত কর, এনাম উদ্দিন, সমরজিৎ চক্রবর্তী ও শমীন্দ্র পাল। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সহযোগিতা করেন অনুরাধা বোস ও আইনজীবী লক্ষী দত্তগুপ্ত। লায়ন্স আই হসপিটালের পক্ষ থেকে চিকিৎসা পরিষেবা দেন মনিদীপ চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা পণ্ডিত, অনামিকা দাস ও শামস উদ্দিন। শিবিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন কাটিগড়া সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের অধ্যক্ষ আখতার হুসেন বড়ভূইয়া, শিক্ষক আলেখ উদ্দিন ও আরিফুল হক বড়ভূইয়া-সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
এছাড়া সাংস্কৃতিক মঞ্চ বদরপুরের অরুণ সেন, যুব তারা শক্তি সংঘ কাটিগড়ার সভাপতি সামস্ উদ্দিন লস্কর, সমাজসেবী জয়দীপ পাল, বিদ্যালয়ের এনএসএস ইউনিটের ছাত্রছাত্রী এবং বিভিসিএল-এর কর্মীরা শিবিরে সহযোগিতা করেন।

আয়োজকদের বক্তব্য, অর্থের অভাবে যাতে কোনও মানুষ চক্ষু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। ছানি আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা ও চোখের যত্ন সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।



