বরাক তরঙ্গ, ১৭ আগস্ট : সরকারি রিপোর্টের ওপর নির্ভর না করে সরেজমিনে উন্নয়নমূলক কাজ ও জনপরিষেবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শিলচরে একাধিক সরকারি প্রকল্প পরিদর্শন করলেন খাদ্য,গণবণ্টন ও উপভোক্তা বিষয়ক, আবাসন ও নগর বিষয়ক এবং সমবায় মন্ত্রী কৌশিক রায়। সোমবার তাঁর পরিদর্শন ঘিরে স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে সরকারি পরিকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতি ও সমস্যার বাস্তব চিত্র জানার চেষ্টা করেন তিনি।
শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নব-স্থাপিত অত্যাধুনিক সিটি স্ক্যান মেশিনের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এরপর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা, পরিকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নেন। শুধু আধিকারিকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পরিবর্তে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন তিনি। চিকিৎসা পরিষেবা পেতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, তা জানতে চান মন্ত্রী। রোগী ও পরিজনদের অভিযোগ ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।

নতুন সিটি স্ক্যান পরিষেবা প্রসঙ্গে কৌশিক রায় জানান, এর ফলে বরাক উপত্যকার মানুষ দ্রুত ও উন্নত রোগ নির্ণয়ের সুবিধা পাবেন। উন্নত ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার জন্য রোগীদের যাতে অন্যত্র যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে। দ্রুত রিপোর্ট পাওয়ায় চিকিৎসকদেরও চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে বলে জানান তিনি।
এরপর নির্মীয়মাণ ইন্টিগ্রেটেড ডিস্ট্রিক্ট কমিশনারের অফিস পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা এবং লোকনির্মাণ বিভাগের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণমান বজায় রাখার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

কৌশিক রায় বলেন, কাগজে থাকা রিপোর্টের পাশাপাশি মাঠে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি দেখা জরুরি। মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান এবং সরকারি প্রকল্প সময়মতো সম্পন্ন করাই সরকারের দায়িত্ব। জনপরিষেবা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি যাচাই করতে আগামী দিনেও এ ধরনের সরেজমিনে পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।



