বরাক তরঙ্গ, ১১ জুন : অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং জেলায় মিগিং-টুটিং সড়কে একটি গাড়ি প্রায় ২০০ মিটার গভীর খাদে পড়ে যাওয়ায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ভয়াবহ ঝুঁকির আরেকটি মর্মান্তিক উদাহরণ হিসেবে এই ঘটনাকে দেখা হচ্ছে।
বুধবার মিগিং এলাকার কাছে ভূমিধসের কবলে পড়ে পাঁচ আরোহী নিয়ে চলা একটি টাটা নেক্সন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে খাদে পড়ে যায় বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই ভারতীয় সেনাবাহিনী, আইটিবিপি (ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ) এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ঘন জঙ্গল, বৃষ্টিতে পিচ্ছিল পাহাড়ি ঢাল এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভূখণ্ড অতিক্রম করে উদ্ধারকারী দলগুলো টানা নয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্ধার অভিযান অরুণাচলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জরুরি পরিষেবার সামনে থাকা কঠিন চ্যালেঞ্জগুলিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এসব এলাকায় একটি মাত্র ভূমিধসই অনেক সময় সম্পূর্ণ জনপদকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।
টুটিংয়ের অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (এডিসি) প্যান্ডভ পারমে জানান, উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া তহবিলের (এসডিআরএফ) নিয়ম অনুযায়ী নিহতদের নিকটাত্মীয়দের প্রত্যেককে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার জন্যও প্রযোজ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বর্ষার প্রকোপ বাড়তে থাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা অরুণাচল প্রদেশের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি সড়কগুলিতে সড়ক নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ, সেখানে ভূমিধস এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ক্রমশ একটি নিয়মিত বিপদে পরিণত হচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতকারী পরিবারগুলোর জন্য একটি ভূমিধস কেবল যান চলাচলে বাধা নয়; অনেক ক্ষেত্রেই তা জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।



