৯ আগস্ট : ইরান দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনে রাজি না হলে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত কি না, তা এখন ওয়াশিংটন যাচাই করছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পথে যেতে রাজি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগের নীতি অব্যাহত রাখবে। ওয়াশিংটন তেহরানের কাছ থেকে এমন পরিবর্তন চায়, যা দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে আরও ভালো সম্পর্কের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ভ্যান্স দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা এবং তথাকথিত অসমমিত সামরিক সক্ষমতাও ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবি মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য হিসেবে এসেছে।
ভ্যান্স বলেন, এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরান ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত, তা দেখা। তেহরান সেই পরিবর্তনে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সেটি কোনো সমস্যা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সে ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর যতটা সম্ভব চাপ প্রয়োগ করে যাবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যতটা সম্ভব তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম রাখার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এমন সময়ে সামনে এলো, যখন দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ ও জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন একদিকে তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভ্যান্সের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শুধু সামরিক সক্ষমতা কমানোর বিষয় নয়, বরং তেহরানের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ, খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



