বরাক তরঙ্গ, ৪ আগস্ট : উজান অসমের বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার ডিব্রুগড়ে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (জেপি নাড্ডা)। তিন দিনের উত্তর-পূর্ব ভারত সফরের অংশ হিসেবে তাঁর এই সফরকে বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিব্রুগড়ের মোহনবাড়ি বিমানবন্দরে পৌঁছালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে স্বাগত জানান অসম সরকারের মন্ত্রী রামেশ্বর তেলী, ডিব্রুগড়ের বিধায়ক প্রশান্ত ফুকন, চাবুয়া-লাহোৱালের বিধায়ক বিনোদ হাজরিকা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার ডিব্রুগড়ে অবস্থানের পর বুধবার জেপি নাড্ডা শিবসাগর, চরাইদেউ ও নাজিরার একাধিক বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করবেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ নেবেন।
অসম সফর শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নাগাল্যান্ডের মন জেলায় যাবেন। সেখানে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। এরপর ৬ আগস্ট তাঁর অরুণাচল প্রদেশ সফরেরও কর্মসূচি রয়েছে।
উজান অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের পর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কেন্দ্র সরকার কী ধরনের আর্থিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করে, সেদিকে এখন নজর রাজ্যের মানুষের।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই নাগা পাহাড় থেকে নেমে আসা প্রবল জলের ঢলে চরাইদেউ, শিবসাগর ও যোরহাট জেলায় নজিরবিহীন বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে অনেক এলাকায় বন্যার জল কিছুটা নেমে গেলেও অসংখ্য পরিবার এখনও ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। যেসব অঞ্চলে অতীতে বড় ধরনের বন্যার নজির ছিল না, সেসব এলাকাতেও বাড়ির ছাদ পর্যন্ত জল উঠে যায়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ৮৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ধ্বংস হয়েছে বহু গ্রাম, বাড়িঘর ও অবকাঠামো। দুর্গত এলাকাগুলোতে এখনও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বাসিন্দারা।
এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অসম সফরের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সরব। সেই প্রেক্ষাপটে জেপি নাড্ডার এই সফরকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



