ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী’ অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা ট্রাম্পের

Spread the news

২০ আগস্ট : ইরানের বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী’ অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে কোনো ধরনের সহায়তা করলে বিশ্বের যেকোনো দেশকে কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বহু সুযোগ ও ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইরান সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, এটি হবে ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন মাত্রার একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ। এর ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে অভূতপূর্বভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, কোনো দেশ যদি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে সহায়তা করে, তাহলে সেই দেশকেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন ও ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশও দেন তিনি।
তবে ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ইরানের কোনো মিত্র বা সহযোগী দেশের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, যাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, তারা নিজেদের বিষয়টি বুঝতে পেরেছে।
চিন, ভারত, তুরস্ক, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে। ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এসব দেশের সঙ্গে দেশটির উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য রয়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, সামনে একটি সর্বাত্মক অর্থনৈতিক যুদ্ধ আসছে। ইরানকে বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করতে সব মিত্র ও অংশীদারকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া ঐতিহাসিক পদক্ষেপ দেশটির বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে ৫ মে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দু’বার মাঝারি মাত্রার যুদ্ধবিরতিও হয়েছে। তবে সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *