বরাক তরঙ্গ, ২০ আগস : শিলঙে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি ভাঙচুর, স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে আঘাত, সমতলের সাধারণ মানুষের ওপর হামলা এবং একাধিক যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংস্থা ‘রূপম’। বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিবৃতিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নিখিল পাল বলেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম মহান বীর। অন্যদিকে স্বামী বিবেকানন্দ জাতীয় চেতনা, মানবতা, যুবশক্তি ও দেশপ্রেমের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা। তাঁদের মূর্তিতে আঘাত করা নিছক ভাঙচুর নয়, বরং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মহান মনীষীদের প্রতি চরম অসম্মান।
রূপমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনও দাবি বা আন্দোলনের পক্ষে যুক্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই দাবি আদায়ের নামে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, যানবাহন ও সম্পত্তি ভাঙচুর কিংবা জাতীয় মনীষীদের মূর্তিতে আঘাত কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড কোনও সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না।
সংগঠনটি মেঘালয় সরকারের কাছে ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি হিংসা, হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আক্রান্ত সাধারণ মানুষ ও তাঁদের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্যও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে রূপম।
রূপমের বক্তব্য, কোনও দাবি আদায়ের পথ হিংসা ও ভাঙচুর হতে পারে না। মতপার্থক্য থাকলে তা গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রকাশ করাই সুস্থ গণতন্ত্রের পরিচয়।
একইসঙ্গে সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, কয়েকজনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের জন্য সমগ্র খাসি সমাজ বা মেঘালয়ের সাধারণ মানুষকে দায়ী করা উচিত নয়। মেঘালয়ের শান্তিপ্রিয় ও বিবেকবান মানুষের কাছেও এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



