তিন বছরেও সম্পূর্ণ হল না পানীয় জল প্রকল্প, পাঁচগ্রামের রাধারানি কলোনিতে ক্ষোভ

Spread the news

শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২ অক্টোবর : বিশুদ্ধ পানীয় জলের আশায় তিন বছর ধরে অপেক্ষা করে রয়েছেন কাছাড়ের পাঁচগ্রামের রাধারানী কলোনির নেপালি বস্তি এলাকার বাসিন্দারা। বহুদিন আগে শুরু করা জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের (পিএইচই) পানীয় জল প্রকল্পের কাজ আজও সম্পূর্ণ না হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পটির মাধ্যমে দ্রুত বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য এখনও বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বহু পরিবারকে। প্রকল্পটির কাজ কেন এত দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন – তিন বছর আগে যদি পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে আজও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণ কী?

এদিকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাংশের বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, সময়ে সময়ে এলাকায় এসে পানীয় জলের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে স্থায়ী সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, প্রকল্পটির জন্য কয়েক বছর আগে স্থাপন করা পাইপ ও অন্যান্য সামগ্রীর অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় প্রকল্পের অনেক সামগ্রী নষ্ট হতে শুরু করেছে বলে তাঁদের অভিযোগ। ফলে প্রকল্প সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই এর পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্বাধীনতার কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও এলাকার বাসিন্দারা বিশুদ্ধ পানীয় জলের মতো মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ করায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ভূমিকা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন পুরনো প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তির পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপ চান। তাঁদের দাবি, পানীয় জল প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করে এলাকায় নিয়মিত বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। তিন বছর আগে দেখা পানীয় জলের সেই আশার বাস্তব রূপ কবে পাবেন রাধারানি কলোনির নেপালি বস্তির বাসিন্দারা – এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন গোটা এলাকার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *