১৭ এপ্রিল : ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে একটি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকেই কার্যকর করা হলো ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইন (Women’s Reservation Act 2023)। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রায় আড়াই বছর পর এই আইনটি প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “সংবিধান (১০৬তম সংশোধনী) আইন, ২০২৩-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এর ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখটিকে এই আইনের কার্যকরের দিন হিসেবে নির্ধারণ করছে।”
সংসদে বর্তমানে ডিলিমিটেশন বিল (আসন পুনর্বিন্যাস) এবং মহিলা সংরক্ষণের আরও কিছু সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলছে। আজ বিকেল ৪টের সময় এই সংক্রান্ত বিলের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই পুরনো আইনটি কার্যকর করে কেন্দ্র কৌশলগতভাবে এক কদম এগিয়ে থাকল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আইনটি কার্যকর হলেও এখনই মহিলারা ৩৩ শতাংশ আসন পাবেন না। এর জন্য প্রধান শর্ত হলো ডিলিমিটেশন বা লোকসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ। ২০২৭ সালের জনগণনা সম্পন্ন হওয়ার পর ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ হলে তবেই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলারা এই সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন।
হঠাৎ মাঝরাতে কেন এই বিজ্ঞপ্তি? বিরোধীদের দাবি, সংসদে যখন এই সংক্রান্ত নতুন বিল ও সংশোধন নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন পুরনো আইন কার্যকর করে সরকার সংসদকে এড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার প্রস্তাব (ডিলিমিটেশন বিল) নিয়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন এই পদক্ষেপে রাজনীতির গন্ধ দেখছেন অনেকেই।
‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ কার্যকর হওয়ার ফলে লোকসভা এবং প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সরকারের দাবি, এটি ভারতীয় আইনসভাগুলিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।



