৬ হাজার টাকার চাকরি থেকে কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য! ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে হানা

Spread the news

৭ জুন : মাসিক মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেছিলেন। সেই কর্মজীবনের পথ পেরিয়ে বর্তমানে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে ওডিশা সরকারের ইন্টিগ্রেটেড ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (আইটিডিএ) অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বৈকুন্ঠ নাথ বেহরার বিরুদ্ধে। আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে শনিবার তাঁর একাধিক বাড়ি ও সম্পত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, বহুতল আবাসন এবং জমির নথি উদ্ধার করেছে ভিজিল্যান্স বিভাগ।

ভিজিল্যান্স সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈকুন্ঠ নাথ বেহরার ব্যাংক লকার ও বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে প্রায় ২ কোটি টাকার হদিশ মিলেছে। এছাড়াও নগদ ২ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নামে ৫টি বহুতল আবাসন এবং ১৪টি জমির প্লটের তথ্য পেয়েছেন। উদ্ধার হওয়া সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের কাজ এখনও চলছে।

দীর্ঘদিন ধরেই বৈকুন্ঠর বিপুল সম্পত্তি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছিল। তাঁর বিরুদ্ধে সহকর্মীদের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে ভুবনেশ্বরের বিশেষ ভিজিল্যান্স আদালত তল্লাশির নির্দেশ দেয়। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডেপুটি সুপার, ইন্সপেক্টর ও অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত বিশেষ দল একযোগে ৯টি স্থানে অভিযান চালায়।

চন্দ্রশেখরপুর, শৈলশ্রী বিহার, কানন বিহার, যাজপুর জেলার ধর্মশালা, বারিপদা ও বালিগুড়ায় অবস্থিত তাঁর সরকারি বাসভবন, অফিস এবং অন্যান্য সম্পত্তিতে এই তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহারে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ বর্গফুট আয়তনের একটি চারতলা বাড়িসহ মোট চারটি আবাসনের সন্ধান মিলেছে।

শুধু বাড়িই নয়, ভুবনেশ্বরের অভিজাত এলাকায় ৭টি-সহ মোট ১৪টি জমির প্লটের খোঁজ পেয়েছে ভিজিল্যান্স। বাকি জমিগুলি যাজপুর ও বারিপদা এলাকায় অবস্থিত বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া সোনার গয়না, ফিক্সড ডিপোজিট, ডাকঘরের সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদের তথ্যও মিলেছে। এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য যাচাই করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন বৈকুন্ঠ নাথ বেহরা। পরবর্তীতে বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের শুরুতে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পদে উন্নীত হন। তবে তাঁর নামে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির উৎস নিয়ে এখন জোর তদন্ত চলছে। ভিজিল্যান্সের দাবি, সম্পূর্ণ মূল্যায়ন শেষ হলে তাঁর মোট সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ সামনে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *