৩ অক্টোবর : একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে হিমালয়ের দেশটির। কখনও হড়পা বান আবার কখনও তুষার ধস। দুর্যোগের শিকার হয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। সম্প্রতি নেপালের মধ্যাঞ্চলে ৭ হাজার ১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং পর্বতের বেস ক্যাম্পে ভয়াবহ তুষারধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার উদ্ধারকারীরা নতুন করে আটটি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স ও আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
গত রবিবার ভোরে হিমলুং পর্বতের বেস ক্যাম্পে তুষারধস আঘাত হানে। বিদেশি পর্বতারোহীদের অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ওই এলাকায় তাঁবু স্থাপন এবং দড়ি বসানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন নেপালি কর্মীরা। দুর্ঘটনার সময় অবশ্য বিদেশি পর্বতারোহীরা বেস ক্যাম্পে পৌঁছাননি।
তুষারধসের পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রথম দিনই দুই পর্বতারোহণ গাইডের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন সোমবার রান্নাঘরের দুই কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। মঙ্গলবার আরও তিনজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এরপর বৃহস্পতিবার আরও আটটি মরদেহ উদ্ধারের ফলে মৃতের সংখ্যা ১৫ জনে পৌঁছেছে।
নেপাল ন্যাশনাল মাউন্টেন গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুল সিং গুরুং জানিয়েছেন, এখনও একজন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, উদ্ধার অভিযানও শীঘ্রই শেষ করা হতে পারে।
বর্তমানে অভিজ্ঞ গাইডসহ ১১ জন উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালাচ্ছেন। চার মিটারেরও বেশি পুরু বরফের স্তর সরিয়ে তাঁরা তুষারের নিচে চাপা পড়া তাঁবুগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলো হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।



