তিনটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে ডিব্রুগড়ে ময়নাতদন্ত, পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলো মরদেহ
বরাক তরঙ্গ, ৫ নভেম্বর : পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া গুয়াহাটির হোটেল বিলাস ইন কাণ্ডের অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার শেষ রাতে প্রায় ৩.১০ নাগাদ শিবসাগরের ফুলপানী ছিগায় পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছিলেন ঘনকান্ত। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখযোগ্য যে, মঙ্গলবার হোটেল বিলাস ইন কাণ্ডের মামলায় পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঘনকান্তকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। এর পরপরই শিবসাগর পুলিশ অন্য একটি মামলায় তাঁকে কারাগার থেকেই গ্রেপ্তার করে রাতে শিবসাগরে নিয়ে আসে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ফুলপানী ছিগায় পৌঁছানোর পর প্রস্রাব করার অজুহাত দেখিয়ে ঘনকান্ত পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালান। এর জবাবে আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।

ডিব্রুগড় স্থিত অসম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তিনটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরীক্ষার শেষে মরদেহটি পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এক প্রবীণ আধিকারিক সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানান যে, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনার ক্ষেত্রে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা বাধ্যতামূলক। যে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হয়, সেই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরও তিনটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হয়।
আধিকারিক জানান, মঙ্গলবার মরদেহটি ডিব্রুগড়ে আনা হলেও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা ও তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সময় লাগায় পরীক্ষা শুরু করতে দেরি হয়। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ময়নাতদন্ত চলার পর সন্ধ্যা প্রায় ৭.১০ নাগাদ মরদেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে ডিব্রুগড়ের বাসভবনে ঘনকান্তের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবরের রাতে গুয়াহাটির জি এস রোডের বরা সার্ভিস এলাকায় অবস্থিত হোটেল বিলাস ইনে এক ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। হোটেলটি লিজে নিয়ে পরিচালনা করা ঘনকান্ত গগৈয়ের সঙ্গে হোটেলের মালিকের বিবাহ সংক্রান্ত বিষয় এবং চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না-করা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ই ঘনকান্ত সঙ্গে নিয়ে আসা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালান বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ছয়জন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে ভূদেব ভরালী, হেলেনা ভরালী, দেবর্ষি কাশ্যপ, ঋণিকা কাশ্যপ এবং নারায়ণ দাসের মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, ভরালী পরিবারের গাড়িচালক সত্যেন্দ্র পাঠকও আহত হয়েছিলেন। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে ঘটা গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।



