বরাক তরঙ্গ, ৫ নভেম্বর : ডাইনি অপবাদে এক পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে তিন মহিলাকে গ্রেফতার করেছে তিনসুকিয়া জেলার ডিগবয় থানার পুলিশ। ডিগবয় থানার অন্তর্গত উল্টাপুল ঔগুড়ি গ্রামে গত ২৮ অক্টোবর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ তদন্তের পর মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত তিন মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডাইনি সন্দেহে ওই মহিলার উপর তাঁর নিজের সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যক্তি নির্যাতন চালান। অভিযোগ, এই ঘটনায় মহিলার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও জড়িত ছিলেন। ফলে ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সূত্রের দাবি, প্রথমে ওই মহিলাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে তাঁর শরীরে আগুন লাগানোর চেষ্টাও করা হয়। তবে কোনওভাবে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর ফের তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। একসময় লম্বা দড়ি দিয়ে তাঁর পা বেঁধে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও তদন্তের স্বার্থে এই সমস্ত তথ্য এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামে পৌঁছালেও তদন্তে প্রথম থেকেই নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ, পুলিশ পৌঁছানোর প্রায় ২০ মিনিট আগেই গ্রামবাসীরা ওই মহিলার দেহ দাহ করে ফেলেন। ফলে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের এক আধিকারিক জানান, অভিযুক্তদের কয়েকজন দাবি করেন, ওই মহিলার মৃত্যু স্ট্রোকে হয়েছে। ঘটনার দিন কোনও লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়নি। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীর অভাব এবং প্রাথমিকভাবে কোনও শারীরিক প্রমাণ না মেলায় তদন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে হাল ছাড়েনি ডিগবয় পুলিশ। স্থানীয় সূত্র ধরে ঘটনার দিন গ্রামে কারা এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি নিকটবর্তী মাকুম ও ডিব্রুগড়ে বসবাসকারী ওই মহিলার আত্মীয়স্বজনদের কাছেও গোপনে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন তদন্তকারীরা।

গ্রেফতার হওয়া তিন মহিলা হলেন বুড়ি চৌতাল (৪৫), স্বামী রাজু চৌতাল; শিমলা মাঝি (৩৫), স্বামী রবি মাঝি এবং অনিমা চৌতাল (৪৮), স্বামী প্রয়াত মঙ্গল চৌতাল। তিনজনই উল্টাপুল ঔগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ডাইনি অপবাদে এমন অমানবিক নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে গ্রামীণ এলাকায় কুসংস্কার ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে।



