বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মানবদরদির প্রয়াণে শোকস্তব্ধ কাটিগড়া, বিভিন্ন মহলে গভীর শোক প্রকাশ
শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ৫ নভেম্বর : এক বর্ণময়, কর্মমুখর ও মানবিক জীবনের অবসান ঘটল। প্রয়াত হলেন কাছাড় জেলার কাটিগড়ার কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী এবং কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রাক্তন প্রশাসনিক আধিকারিক কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী। তাঁর প্রয়াণে কাটিগড়া ওয়ার্কিং জার্নালিস্ট গিল্ডের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। গিল্ডের কর্মকর্তারা প্রয়াতের মরদেহে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁরা বলেন, কল্যাণকুমার চক্রবর্তীর মতো মানবদরদি ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে কাটিগড়া তথা বরাক উপত্যকা একজন প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীকে হারাল। স্মৃতিতে অমর থাকবেন কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রয়াতের বাসভবনে গিয়ে শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন বিজেপির কাটিগড়া মণ্ডল সভাপতি বাবলা দেব, প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য তথা কাটিগড়া পঞ্চায়েত সভাপতি অসীম দত্ত। এছাড়া সিদ্ধেশ্বর হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের পক্ষ থেকেও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। বিদ্যালয়ে শোকসভা অনুষ্ঠিত করে প্রয়াত শিক্ষাবিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাটিগড়া আঞ্চলিক কমিটির কর্মকর্তারাও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের শোকবার্তায় কাটিগড়া জুড়ে শোকের আবহ আরও গভীর হয়ে ওঠে।

ব্যক্তিগত জীবনেও কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল, অমায়িক, উদার ও পরোপকারী। জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে ভালোবাসার যে শিক্ষা তিনি নিজের জীবনাচরণে তুলে ধরেছিলেন, তা তাঁকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে আপন করে তুলেছিল।
একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি প্রজন্মকে আলোকিত করেছেন, সমাজসেবী হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আর মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অসংখ্য হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তুলেছেন। তাঁর প্রয়াণে কাটিগড়া হারাল এক কৃতী সন্তানকে, বরাক উপত্যকা হারাল এক মানবদরদি ব্যক্তিত্বকে। তবে তাঁর কর্ম, আদর্শ ও ভালোবাসার স্মৃতি আগামী প্রজন্মের কাছে চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

শিক্ষকতার পাশাপাশি কাটিগড়ার সিদ্ধেশ্বর প্রগতি সংঘের সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী। সংঘের সভাপতি হিসেবে প্রায় তিন দশক অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে সংঘের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সংঘের কর্মকর্তারা তাঁর বাসভবনে উপস্থিত হয়ে মরদেহে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন সংঘের সভাপতি গৌতম ভট্টাচার্য, নিলোৎপল শর্মা, দিব্যেন্দু দাস, অসীম দত্ত, সৌমাভ ভট্টাচার্য প্রমুখ।

এদিকে, সংঘের সাধারণ সম্পাদক দিব্যজ্যোতি দাস এক শোকবার্তায় বলেন, কল্যাণ কুমার চক্রবর্তীর প্রয়াণে তাঁরা একজন অভিভাবককে হারালেন। তাঁর মৃত্যুতে সংঘ গভীরভাবে মর্মাহত। প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংঘের আগামী তিন দিনের সমস্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। সংঘ পরিচালিত প্রগতি বিদ্যা নিকেতনও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শোকবার্তায় তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তাঁর মরদেহ শিলচরের কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কাটিগড়ায় ফিরিয়ে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়।



