জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন ও গবেষণায় জোর, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপাল মনোনীত পিয়ার টিমের পরিদর্শন সমাপ্ত

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৩ অক্টোবর : জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, গবেষণার পরিসর সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ সাধনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শেষ হল গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপাল মনোনীত পিয়ার টিমের দু’দিনের পরিদর্শন। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই পরিদর্শন মঙ্গলবার সমাপ্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত পরিকাঠামো, গবেষণামূলক কার্যক্রম, গুণমান নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও উচ্চশিক্ষা প্রশাসকদের নিয়ে গঠিত দলটি।

পরিদর্শনের প্রথম দিনে উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়, রেজিস্ট্রার ড. অভিজিৎ নাথ, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পিয়ার টিমের সদস্যরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গুণমান নিশ্চিতকরণ কোষের (আইকিউএসি) উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আইকিউএসি-র অধিকর্তা ড. কৃষ্ণচন্দ্র দাস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত অগ্রগতি, গবেষণা এবং গুণমান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগ ও গবেষণাগার পরিদর্শন করেন দলের সদস্যরা।

পিয়ার টিমের আহ্বায়ক তথা ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডি ইন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধিকর্তা অধ্যাপক আশিস কুমার মুখার্জি জানান, এই পরিদর্শন ন্যাকের প্রচলিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নয়। বরং জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে ন্যাকের মূল্যায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তুতি যাচাই করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। পরিদর্শনের পর্যবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে পেশ করা হবে।

তিনি গবেষণার জন্য প্রতিযোগিতামূলক অনুদান সংগ্রহ, যৌথ গবেষণা প্রকল্প গঠন এবং আন্তবিভাগীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি ভাষা, মানববিদ্যা ও কলাচর্চার সমান গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তরণের এই পর্যায়ে গবেষণা, উদ্ভাবন, সমালোচনামূলক অনুসন্ধান এবং আন্তবিভাগীয় সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিয়ার টিমের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ বিকাশে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আইকিউএসি-র অধিকর্তা ড. কৃষ্ণচন্দ্র দাসের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। রাষ্ট্রগীত ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে দু’দিনের পরিদর্শন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *