দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৭ জুন : গত ১৫ এপ্রিল শিলচরের গোপাল আখড়া এলাকায় এক বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়া জিতেন্দ্রচন্দ্র দাসের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার তাঁর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় জিতেন্দ্রচন্দ্র দাসকে প্রথমে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে জীবন জ্যোতি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে তাঁকে শিলংয়ের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও গত ৩১ মে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন শ্রীভূমি জেলার বাসিন্দা কেশব নাথ, যিনি বর্তমানে শিলচরের পাবলিক স্কুল রোডের শ্যামানন্দ লেনে বসবাস করেন। এ ঘটনায় সদর থানায় এফআইআর দায়ের করা হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের পুত্র সুমিত দাস (জয়) জানান, অভিযুক্তের বড় ভাই রনিত দেবরায় তাঁদের বাড়িতে এসে মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। তবে পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, জিতেন্দ্র চন্দ্র দাস এলাকার একজন পরিচিত ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ছিলেন। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল একটি রেশন দোকান। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার যেমন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, তেমনি আর্থিক সংকটেও পড়েছে।
রবিবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দীপ ভট্টাচার্য, হীরক দেবনাথ, প্রকাশ পাল, কিশোর পাল, রিপন পাল, জয়শ্রী দাস, ধ্রুবজ্যোতি দাস, বিশাল আচার্যসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপ ও দ্রুত বিচারের দাবি জানান। বিশেষভাবে প্রকাশ পাল মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।



