সবুজ জ্বালানি ও সমাজকল্যাণে জাতীয় স্বীকৃতি, সম্মানিত রাজু মিত্র

Spread the news

২৫ জুলাই : সবুজ জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষকদের ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গোপাল গ্যাস প্রাইভেট লিমিটেড (জিজিপিএল)-এর পরিচালক রাজু মিত্রকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্লিন এনার্জি ভিশনারি অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড–২০২৬’-এ সম্মানিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি নয়াদিল্লির দ্বারকার র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়া এক্সিলেন্স অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস–২০২৬’ অনুষ্ঠানে বলিউড অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী পাটওয়ার্ধনের হাত থেকে এই সম্মান গ্রহণ করেন তিনি। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, টেকসই উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণে দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
জিজিপিএল দীর্ঘদিন ধরে বায়োফুয়েল, কমপ্রেসড বায়োগ্যাস (সিবিজি), বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং এবং নবায়নযোগ্য শক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। পাশাপাশি কৃষিজ ও জৈব বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্পে বহু যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে দেশের একাধিক রাজ্যে বায়োফুয়েল রিফাইনারি, প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস প্ল্যান্ট এবং আধুনিক ফুয়েল রিটেইল আউটলেট পরিচালনা করছে জিজিপিএল। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সবুজ জ্বালানি প্রকল্প সম্প্রসারণেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংস্থার দাবি, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কৃষক, যুবসমাজ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো কার্বি আংলং বায়ো ফুয়েল রিফাইনারি, যা কার্বি আংলং অটোনোমাস কাউন্সিলের সহযোগিতায় গড়ে তোলা হচ্ছে। সংস্থার মতে, এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ সবুজ জ্বালানি প্রকল্প হিসেবে গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থান, কৃষকদের অতিরিক্ত আয় ও টেকসই শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পুরস্কার গ্রহণের পর এক বিশেষ পডকাস্টে বলিউড অভিনেতা মুসতাক খানের সঙ্গে আলাপচারিতায় রাজু মিত্র বলেন, এই সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং জিজিপিএল-এর প্রতিটি সদস্য, কৃষক, সহযোগী ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসার, কৃষকদের আর্থিক উন্নয়ন এবং যুবসমাজের জন্য আরও কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমিয়ে বায়োফুয়েল ও অন্যান্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোই জিজিপিএল-এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। কৃষকদের ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং আত্মনির্ভর, টেকসই ভারত গড়ে তোলার দিকেই প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *