বরাক তরঙ্গ, ২৫ জুলাই : শিলচরে আড়াই বছরের এক শিশুপুত্রকে বিক্রির চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে বেরেঙ্গা তৃতীয় খণ্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্রেতা, বিক্রেতা ও মধ্যস্থতাকারী-সহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে তিনজন মহিলা এবং তিনজন পুরুষ রয়েছেন। তবে এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত বাহার উদ্দিন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তাকে ধরতে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতরা হলেন ধলাই থানার লায়লাপুর ফ্রেঞ্চনগর ফরেস্ট ভিলেজের বাসিন্দা রজমুল আলি ও তাঁর স্ত্রী রোসনা বেগম, সোনাইয়ের ঝাঞ্ঝারবালির বাসিন্দা সুলতানা বেগম লস্কর, তাঁর দুই ভাই নবিদুল ইসলাম লস্কর ওরফে বাবু এবং নুরুল ইসলাম লস্কর, পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী স্বপ্না বেগম লস্কর। স্বপ্না কচুদরম থানার টেঙ্গাখাউরির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বেরেঙ্গা তৃতীয় খণ্ডে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, নিঃসন্তান সুলতানা বেগমকে সন্তান এনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বপ্না বেগম ও তাঁর স্বামী বাহার উদ্দিন। পরে তাঁদের মাধ্যমেই রজমুল-রোসনা দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর আড়াই বছরের শিশুটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫৫ হাজার টাকা। শুক্রবার রাতে শিশুটিকে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সবাই স্বপ্নার বাড়িতে জড়ো হলে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ৫৭ হাজার ৯০০ টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শিশুটির মূল্য ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারিত হলেও উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, রজমুল ও রোসনা দম্পতির চার সন্তান রয়েছে। তাঁদের সবচেয়ে ছোট আড়াই বছরের শিশুপুত্রকেই বিক্রি করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এছাড়া মধ্যস্থতাকারী স্বপ্না বেগম ও তাঁর স্বামী বাহার উদ্দিনের সঙ্গে বৃহত্তর শিশুপাচার বা শিশুবিক্রির চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শনিবার ধৃত ছয়জনকে আদালতে হাজির করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে আপাতত শিশু সুরক্ষা হোমে রাখা হয়েছে। ঘটনায় পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেফতার এবং সম্ভাব্য চক্রের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।



