শিক্ষার নামে বাণিজ্যে লাগাম টানতে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ এপ্রিল : শ্রীভূমি জেলায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেআইনি কার্যকলাপ ও শিক্ষার নামে বাণিজ্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিশ্চিত করতে জেলা স্কুল পরিদর্শকের দপ্তর থেকে জারি করা হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ, যা ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

জেলা শিক্ষা আধিকারিক নীলম জ্যোতি দাস (AES-I), স্কুল পরিদর্শক শ্রীভূমির স্বাক্ষরিত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের নির্দেশ অনুযায়ী, জেলার সমস্ত বেসরকারি পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের বৈধ সরকারি অনুমোদনপত্র এবং প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত জমির দলিলের অনুলিপি জেলা স্কুল পরিদর্শকের দপ্তরে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নথিপত্র জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, জেলার বহু বেসরকারি স্কুল পর্যাপ্ত সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও বৈধ জমির নথির অভাব, আবার কোথাও সরকারি স্বীকৃতির প্রমাণ নেই। অথচ বিপুল পরিমাণ ফি আদায়, অতিরিক্ত চার্জের বোঝা এবং বিভিন্ন অজুহাতে অভিভাবকদের উপর আর্থিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে শিক্ষা অধিকার না হয়ে ক্রমশ এক ব্যয়বহুল পণ্যে পরিণত হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই বাণিজ্যিক প্রবণতার ফলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বহু শিক্ষার্থী মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, অনেক ছাত্রছাত্রী জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাব ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারছে না।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর সামাজিক দায়িত্বও আরোপ করেছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সরকারি শিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করতে হবে, যাতে তারা উন্নত শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত হতে পারে।

প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—শিক্ষা কোনও বাণিজ্য নয়, বরং সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। নির্দেশ অমান্য করলে শুধু সতর্কবার্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের DISE কোড বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হতে পারে, যা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *