শুভ দাস, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২ নভেম্বর : বরাক উপত্যকার দুর্গাপূজার ঐতিহ্য, শিল্পকলা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি জানাতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হল ‘শারদ সম্মান ২০২৬’। ক্লাব ইচ্ছেডানা ও Nahata Tex-এর যৌথ উদ্যোগে এবং I Love Barak Valley-এর সহযোগিতায় রবিবার শিলচরের মেহেরপুরস্থিত দশভুজা প্রেক্ষাগৃহে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘বরাকের সেরা পুজোর সেরা সম্মান’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন দুর্গাপূজা কমিটিকে মোট ১৫টি বিভাগে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এদিন প্রয়াত মালতী পাল স্মৃতি সম্মানে সেরা পুজোর স্বীকৃতি পায় উধারবন্দ হাসপাতাল রোড পুজো কমিটি। প্রয়াত বিমলজ্যোতি দত্ত স্মৃতি সম্মানে সেরা নান্দনিক প্রতিমার পুরস্কার অর্জন করে অ্যাপোলো ক্লাব পুজো কমিটি। প্রয়াত রাকেশ দেব স্মৃতি সম্মানে সেরা শাস্ত্রীয় প্রতিমার স্বীকৃতি পায় মধ্য মালুগ্রাম পুজো কমিটি। প্রয়াত শুভেন্দ্র নাথ দাস স্মৃতি সম্মানে সেরা আধুনিক প্রতিমার পুরস্কার পায় দক্ষিণ আম্বিকাপুর শ্মশান রোড পুজো কমিটি এবং প্রয়াত অনুকূল দাস স্মৃতি সম্মানে সেরা সৃজনশীল প্রতিমার স্বীকৃতি অর্জন করে উধারবন্দ কালীবাড়ি রোড পুজো কমিটি।

এছাড়া সেরা জনপ্রিয় পুজোর সম্মান পায় মিতালী সংঘ, সেরা মণ্ডপের স্বীকৃতি অর্জন করে বিলপার দুর্গাবাড়ি পুজো কমিটি এবং সেরা থিমের পুরস্কার পায় চণ্ডীচরণ রোড–রাঙ্গারখাড়ি পুজো কমিটি। সেরা জনপ্রিয় পুজোর সম্মানটি ছিল শুভলক্ষ্মী চৌধুরীর সৌজন্যে এবং সেরা মণ্ডপ ও সেরা থিমের পুরস্কার ছিল বিশ্ব ফার্মার সৌজন্যে।
প্রয়াত মণিকা গুপ্ত স্মৃতি সম্মানে সেরা সাবেকি প্রতিমার পুরস্কার পায় দক্ষিণ লিংক রোড পুজো কমিটি। প্রয়াত রেবারানি ঘোষ স্মৃতি সম্মানে সেরা শোভাযাত্রার স্বীকৃতি অর্জন করে দক্ষিণ বিলপার সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি। প্রয়াত নিহারেন্দু পাল স্মৃতি সম্মানে সেরা ব্যতিক্রমী থিমের পুরস্কার পায় ডে লাইট পুজো কমিটি। প্রয়াত রণজিৎ ভট্টাচার্য স্মৃতি সম্মানে সেরা পরিবেশবান্ধব প্রতিমার স্বীকৃতি অর্জন করে অল মেডিক্যাল সেলস পিপল পুজো কমিটি। প্রয়াত নির্মলেন্দু দেব স্মৃতি সম্মানে সেরা আলোকসজ্জার পুরস্কার পায় আপনজন দুর্গাপূজা কমিটি। অন্যদিকে, বিপ্লব দের সৌজন্যে সেরা নিয়ম-শৃঙ্খলার সম্মান পায় সংস্কৃতি চেতনা ন্যাস এবং জনি অ্যান্ড জনির সৌজন্যে সেরা শৈল্পিক প্রতিমার পুরস্কার অর্জন করে নিউ শিলচর সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন। নৃত্য পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে নৃত্যভারতী, নটরাজ নৃত্যালয় ডান্স অ্যাকাডেমি, নৃত্যকলি ডান্স স্কুল, নিনাদ গুরুকুল এবং ফিট ফিমেল। বিভিন্ন নৃত্য প্রতিষ্ঠানের শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও একক নৃত্য পরিবেশন করেন ঋতিকা শুক্লবৈদ্য এবং একক সংগীত পরিবেশন করেন অভিলাষা দেব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সুপ্রিয়া পাল ও বুল্টি রায়ের উপস্থিতিও বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে।

আয়োজকদের মতে, শারদ সম্মানের মূল উদ্দেশ্য কেবল পুজো কমিটিগুলিকে পুরস্কৃত করা নয়, বরং বরাক উপত্যকার দুর্গোৎসবের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী, প্রতিমাশিল্পী, মণ্ডপ নির্মাতা, আলোকশিল্পী এবং অসংখ্য উদ্যোক্তার সৃজনশীল কাজকে যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করা। এই ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন পুজো কমিটির মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি আগামী দিনে বরাকের দুর্গোৎসবের শিল্প ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন উদ্যোক্তারা।
ঐতিহ্য, শিল্প, সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধনের মধ্য দিয়ে ‘শারদ সম্মান ২০২৬’ বরাক উপত্যকার দুর্গোৎসবের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।



