বরাক তরঙ্গ, ২ নভেম্বর : মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সংগঠিত আর্থিক জালিয়াতি চক্র চালানোর অভিযোগে অসমে এক মহিলাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা (PIO)-র সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে বলেও সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। সোমবার অসম পুলিশ সূত্রে এই খবর জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ অক্টোবর থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করে অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। গুয়াহাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শোণিতপুর জেলা পুলিশের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে STF একটি মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে মারজিনা বেগম নামে এক অভিযুক্তের পরিচালনাধীন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-র একটি অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে।
তদন্তে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ২২ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪৭ দিনের মধ্যে ওই অ্যাকাউন্টে কয়েক লক্ষ টাকা জমা পড়েছিল। প্রতিবার টাকা জমা হওয়ার পরপরই তা তুলে নেওয়া হতো। এই অস্বাভাবিক লেনদেন থেকেই আর্থিক জালিয়াতির সন্দেহ ঘনীভূত হয়।

পরবর্তী তদন্তে গুয়াহাটির বাসিন্দা ২২ বছর বয়সি মফিজুল হক এবং ১৯ বছর বয়সি হিমাংশু দাসের নাম উঠে আসে। সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটির সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক অপারেটিভের যোগাযোগ থাকতে পারে।
২৮ অক্টোবরের অভিযানে মারজিনা বেগম-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও বেশ কিছু নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যেগুলি এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ পুলিশের।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় মফিজুল হক ও হিমাংশু দাস নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের পরিচয় প্রকাশ করেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই সূত্র ধরে ২৯ অক্টোবর ৩৪ বছর বয়সি রাকিব হোসেন এবং ৩০ অক্টোবর ২৫ বছর বয়সি ইফতার হোসেন ও ২০ বছর বয়সি আরমান আজুজ হককে গ্রেফতার করা হয়।
এই চক্রের বিস্তার, আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কথিত যোগসূত্রের প্রকৃত স্বরূপ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



