সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ, বহুবিবাহে জড়ালে চাকরি হারাবেন সরকারি কর্মচারীরা
বরাক তরঙ্গ, ৩ নভেম্বর : দিসপুরের লোকসেবা ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অসম মন্ত্রিসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন তিনি। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা অসম সরকারের বিভিন্ন পদে চাকরির জন্য ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বহুবিবাহ নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। কোনও সরকারি কর্মচারী বহুবিবাহে আবদ্ধ হলে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তিনি আর কোনও সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত হতে পারবেন না। রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে, রাজ্যের পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পাঁচটি রোপওয়ে প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। প্রকল্পগুলি হল— কামাখ্যা রেলওয়ে স্টেশন থেকে কামাখ্যা মন্দির, খানাপাড়া থেকে গুয়াহাটি রেলওয়ে স্টেশন এবং কাছাড় জেলার গঙ্গানগর থেকে ভুবন পাহাড় পর্যন্ত রোপওয়ে সংযোগ। এছাড়া ডিমা হাসাওয়ের জাতিঙ্গা এবং তেজপুরের অগ্নিগড়েও রোপওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, অসমের উজান অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে (CBI) দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত সংক্রান্ত ফাইল সিবিআইয়ের কাছে পাঠানো হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিশেষ করে শিবসাগর, চরাইদেউ ও যোরহাট জেলায় সংঘটিত বিধ্বংসী বন্যার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতেই এই তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

রাজ্য মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তগুলি আগামী দিনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, সরকারি নিয়োগ এবং পর্যটন পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।



