বরাক তরঙ্গ, ৩ নভেম্বর : লায়ন্স জেলা ৩২২জি-র ২০২৬-২৭ লায়ন্স বর্ষের দ্বিতীয় ক্যাবিনেট সভা গত ৩১ অক্টোবর শিলচরে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা গভর্নর লায়ন মনোজ ভাজাঙ্কার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ক্যাবিনেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, সদস্য সংখ্যা সম্প্রসারণ, নতুন ক্লাব গঠন, নেতৃত্বের বিকাশ, সমাজসেবামূলক কর্মসূচি এবং লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন (LCIF)-এ অনুদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা সমন্বয়ক তাঁদের নিজ নিজ বিভাগের কাজের অগ্রগতি ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
সভায় বিশেষ আকর্ষণ ছিল লায়ন পায়েল ভার্তিয়ার সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘Lions Imprint’ পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ। জেলা গভর্নর লায়ন মনোজ ভাজাঙ্কা পত্রিকাটির মোড়ক উন্মোচন করেন। জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করে তুলতে সভায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ক্যাবিনেট সেক্রেটারি লায়ন প্রকাশ সিকারিয়ার ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে মূল সভার সমাপ্তি ঘটে।
মূল ক্যাবিনেট সভার আগে অনুষ্ঠিত হয় Honorary Committee Meeting এবং District Fund Foundation (DFF) Meeting। এই দুই বৈঠকে জেলার লায়নিজমের সার্বিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের স্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি DFF অনুদানের জন্য আবেদনকারী যোগ্য ক্লাবগুলির প্রস্তাবিত বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রকল্পের অনুকূলে আর্থিক অনুদান অনুমোদন করা হয়।
এদিন জোন চেয়ারপার্সন ও জোন GAT সমন্বয়কদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ GAT বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। জেলা GLT সমন্বয়ক লায়ন দিলীপ সারাফ বৈঠকটি পরিচালনা করেন। এতে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন ক্লাব গঠন, সেবামূলক কর্মসূচির রিপোর্টিং এবং LCIF-এ নিয়মিত অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা গভর্নর লায়ন মনোজ ভাজাঙ্কা, প্রথম ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন রাজেশ আগরওয়ালা এবং দ্বিতীয় ভাইস জেলা গভর্নর লায়ন সুজিত বাখরেদিয়া তাঁদের মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন। ডেপুটি ক্যাবিনেট সেক্রেটারি লায়ন সঞ্জীব চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বৈঠকেরও পরিসমাপ্তি ঘটে।
পরপর এই বৈঠক ও আলোচনার মধ্য দিয়ে লায়ন্স জেলা ৩২২জি-র সাংগঠনিক ভিত আরও মজবুত করা, নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং সমাজকল্যাণে আরও বিস্তৃত ও অর্থবহ সেবামূলক কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে জেলা নেতৃত্বের অঙ্গীকার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



