মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩ নভেম্বর : দীর্ঘ ৪৮ বছরের পথচলা, অসংখ্য স্মৃতি, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক অবদানের সাক্ষী পাথারকান্দির ব্যতিক্রমী সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘চতুরঙ্গ’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৪৮টি মাটির প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো সংগঠনটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা দিবস। প্রবীণ ও নবীন সদস্যদের মিলনমেলা, সংগীতের সুর এবং আন্তরিক পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অনুষ্ঠানে ৪৮টি প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে সংগঠনের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে স্মরণ করার পাশাপাশি আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে চতুরঙ্গের কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব সিদ্ধার্থ শেখর পাল চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ৪৭ বছরের পথচলায় নানা চড়াই-উতরাই ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে চতুরঙ্গ। আগামী দিনে সংগঠনের ঐতিহ্য ও আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নবীন প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪৮টি প্রদীপের আলো যেন নতুন প্রজন্মের আগামী দিনের পথচলায় আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। ঐক্য, নিষ্ঠা ও সাহসকে পাথেয় করে নতুন প্রজন্ম সংগঠনকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক পীযুষ কুমার দেব সংগঠনের দীর্ঘ যাত্রাপথে যুক্ত প্রত্যেক সদস্য, শুভানুধ্যায়ী ও কর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চতুরঙ্গের সাফল্যের নেপথ্যে তাঁদের শ্রম, নিষ্ঠা ও আন্তরিক অবদানের কথা স্মরণ করে আগামী দিনেও সম্মিলিত সহযোগিতায় সংগঠনের কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিষ্ঠা দিবসের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রবীণ ও নবীন শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। বিভিন্ন শিল্পীর সংগীত পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। তবলায় সহযোগিতা করেন সংগঠনের সভাপতি সুরজিৎ হোমচৌধুরী।

এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রনোজিৎ ধর, সংগীতগুরু জগন্ময় দাশগুপ্ত, এ এস হোসেন আহমদ, সঞ্জীব দে, পঙ্কজ শ্যাম ও শুভাশীষ চক্রবর্তী। তাঁদের বক্তব্যে চতুরঙ্গের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাথারকান্দির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছে চতুরঙ্গ। ৪৮তম বর্ষে পদার্পণের এই বিশেষ মুহূর্তে প্রবীণ ও নবীনদের সম্মিলিত প্রয়াসে সংগঠনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।



