গুয়াহাটির অসম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের জলের ট্যাঙ্কে পচাগলা বাঁদরের দেহ! অসুস্থ ৫৪ পড়ুয়া, হাসপাতালে ভর্তি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩ নভেম্বর : পানীয় জলের দুর্গন্ধ নিয়ে বারবার অভিযোগের পর অসম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের (AEC) ৭ নম্বর হস্টেলের একটি ওভারহেড জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হল একটি মৃত বাঁদরের দেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে কলেজ চত্বরে। দূষিত জল ব্যবহারের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৫৪ জন পড়ুয়া। তাঁদের সরকারি আয়ুর্বেদিক কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রবিবার এই ঘটনাটি সামনে আসে। হস্টেলের পানীয় জলে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি একের পর এক পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিজেরাই জলের ট্যাঙ্ক পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন ছাত্রছাত্রীরা। তখনই একটি ওভারহেড ট্যাঙ্কের ভিতরে পচাগলা বাঁদরের দেহ দেখতে পান তাঁরা। পড়ুয়াদের দাবি, পান করা, স্নান করা, দাঁত মাজা থেকে শুরু করে বাসনপত্র পরিষ্কার—সব কাজেই ওই ট্যাঙ্কের জল ব্যবহার করা হচ্ছিল।

ছাত্র প্রতিনিধি মিথ্রাঞ্জয়ন জানান, দুর্গাপুজোর ছুটির পর পড়ুয়ারা হস্টেলে ফিরে আসার পর থেকেই জলের গুণগত মান নিয়ে সমস্যা শুরু হয়। পানীয় জলে দুর্গন্ধ পাওয়ার পর হস্টেলের কেয়ারটেকারকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। প্রথমদিকে কয়েকজন পড়ুয়ার পেটের সমস্যা দেখা দিলে তাঁরা খাবার থেকেই অসুস্থতা ছড়াচ্ছে বলে সন্দেহ করেছিলেন।

তিনি আরও জানান, কয়েকজন পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট উদ্বেগজনক ছিল। তাঁর দুই-তিনজন বন্ধুকেও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয়েছে। এক পড়ুয়াকে স্যালাইন দিতে হয়েছে এবং তাঁর হাঁটাচলাতেও সমস্যা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে পড়ুয়াদের পড়াশোনাতেও। আসন্ন CAT পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ায় পরীক্ষার সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ ড. অমৃতা গাঙ্গুলি জানান, পড়ুয়াদের পেটের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পরই কলেজ কর্তৃপক্ষ জলের ট্যাঙ্কগুলি পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি পড়ুয়াদের মেস অন্য একটি হস্টেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অধ্যক্ষের কথায়, প্রথমদিকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন পড়ুয়ার মধ্যে পেটের সমস্যা এবং আমাশয়ের মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। আক্রান্ত পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে অধ্যক্ষ দাবি করেন, কোনও পড়ুয়াকেই হাসপাতালে ভর্তি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং কারও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়েনি। অন্যদিকে, ছাত্র প্রতিনিধির বক্তব্যে কয়েকজন পড়ুয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে ঘটনাকে ঘিরে পড়ুয়া ও কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *