বরাক তরঙ্গ, ২৮ জুলাই : অসম বিধানসভার অধিবেশনে কাটিগড়া কেন্দ্রের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বরাকভ্যালি সিটিজেন্স ফোরাম। সোমবার শিলচর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিধায়কের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিধানসভার স্পিকারের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তোলা হয়।
ফোরামের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, বিধানসভায় কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ নিজেই অতীতে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে করা তাঁর মন্তব্যে সমগ্র শিক্ষক সমাজকে অপমান করা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য একজন জনপ্রতিনিধির মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেও দাবি করেন তাঁরা।
সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নিরঞ্জন দত্ত বলেন, বিধায়ক যদি অতীতে বিধানসভায় মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের কথা স্বীকার করে থাকেন, তবে সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত। পাশাপাশি বিধানসভার মর্যাদা রক্ষায় তাঁর বিরুদ্ধে ‘প্রিভিলেজ মোশন’ আনার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষক সমাজ সম্পর্কে করা মন্তব্যের জন্য বিধায়কের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াও দাবি করেন তিনি।
সমাজকর্মী অশোককুমার দেব বলেন, শিক্ষকতা একটি সম্মানজনক পেশা এবং বহু শিক্ষক পরবর্তীকালে সফল রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই শিক্ষক সমাজকে অবমাননাকর ভাষায় উপস্থাপন করা অনভিপ্রেত। তিনি আরও বলেন, বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখা প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির কর্তব্য।
শিক্ষিকা জয়ন্তী দত্ত বলেন, একজন বিধায়ক সংবিধানের প্রতি আনুগত্য ও সত্যনিষ্ঠার শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই অবস্থান থেকে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বিধানসভার মর্যাদার পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া শিক্ষিকা শাখী ভট্টাচার্য, ফোরামের সংযোজক শংকর দে, কবি-সাংবাদিক স্মৃতি পাল নাথ, সমাজকর্মী বাহার আহমদ চৌধুরী এবং গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শাশ্বত ভট্টাচার্যসহ উপস্থিত বক্তারা বিধায়কের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁরা দাবি করেন, শিক্ষক সমাজকে অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধে বিধানসভা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।



