দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ মে : ধলাইয়ের নরসিংহপুর সাউথ জিপির ২ নম্বর গ্রুপের রিকিয়াসন পাড়ায় রুকনি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নদীভাঙন সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের জেরে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন এলাকার বহু পরিবার।
শনিবার ভুক্তভোগী পরিবারগুলির সদস্যরা জানান, রুকনি নদীর ভাঙন ক্রমাগত বাড়তে থাকায় একাধিক বাড়ি এখন ধসের মুখে। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অচিরেই বেশ কয়েকটি পরিবার সর্বস্ব হারাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এলাকার বাসিন্দা হীরা রিকিয়াসন জানান, ইতিমধ্যেই তার বাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। খুব শীঘ্রই পুরো বসতভিটাই নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। অন্যত্র যাওয়ার মতো কোনো জায়গা না থাকায় সরকারের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন হীরা রিকিয়াসন।
এদিন নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান জিপির এক প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে জিপি সভানেত্রীর প্রতিনিধি পুতুল সিনহা জানান, এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র ও অসহায়। নদীভাঙনের ফলে তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তবে জিপি স্তরে নদীভাঙন প্রতিরোধের কোনো প্রকল্প না থাকায় স্থানীয়ভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে বিভাগীয় আধিকারিক এবং ধলাইয়ের বিধায়ক অমিয়কান্তি দাশের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন পুতুল সিনহা।
প্রাক্তন জিপি সভাপতি সূর্যকান্ত সিনহা বলেন, নদীভাঙনের কারণে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এখানে বসবাসকারী অধিকাংশ পরিবার দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। তাদের বিকল্প বাসস্থানের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই অবিলম্বে সরকারি আধিকারিকদের নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এদিন পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ধলাই নরসিংহপুর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক রুক্ষিনীকুমার সিনহা, তরুণ সিনহা, জিপির দুই গ্রুপ সদস্য প্রিতোষ সিনহা ও নৃপেনচন্দ্র পালসহ অন্যান্যরা।



