মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ মে : শ্রীভূমি শহরে কৃত্রিম বন্যা প্রতিরোধে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বেহাল রাস্তাঘাটের দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবিতে শুক্রবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের করিমগঞ্জ জেলা কমিটি। জেলা সদরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। শনিবার নেতাজি মূর্তির পাদদেশ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ছন্তর বাজার পয়েন্ট, ফায়ার ব্রিগেড রোড ও শম্ভু সাগর রোড পরিক্রমা করে জেলা আয়ুক্ত কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভকারীরা শহরের প্রধান সড়কের দ্রুত পুনর্নির্মাণ, আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃত্রিম বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান তোলেন। কর্মসূচির সময় শহরের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের সমর্থনও লক্ষ্য করা যায়।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের করিমগঞ্জ জেলা সম্পাদক ও রাজ্য কমিটির সদস্য অরুণাংশু ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, টানা বৃষ্টিতে করিমগঞ্জ শহরের অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, অপরিকল্পিত ও পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই প্রতি বছর শহরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি জানান, জলাবদ্ধতার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে উন্নত রাস্তা ও বৈজ্ঞানিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা কঠিন নয়। কিন্তু সরকার ও প্রশাসনের চরম অবহেলা এবং উদাসীনতার কারণেই করিমগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবিও জানান তিনি।
স্মারকপত্রে শহরের প্রধান রাস্তার অবিলম্বে পুনর্নির্মাণ, জোড়াতালি মেরামত বন্ধ করে গুণগতমানসম্পন্ন স্থায়ী কাজ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবারের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তা এবং কৃত্রিম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সাহায্যের দাবি জানানো হয়েছে। এদিনের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন অরুণাংশু ভট্টাচার্য, প্রজ্জ্বল দেব, তুষার দাস, পিকলু দাস, বিষ্ণু দত্ত পুরকায়স্থ, বিনয় হালাম, বিজিত কুমার সিনহা এবং আব্দুর রহিম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। পরে স্মারকপত্রের প্রতিলিপি এনএইচডিসিএল-এর জেনারেল ম্যানেজারের কাছেও জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
পরে জেলা আয়ুক্তের অনুপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তথা সিইও মুন গগৈর হাতে পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকপত্র তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্মারকপত্রের প্রতিলিপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।



