উধারবন্দে রড কারখানা বিস্ফোরণে মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নিল NHRC, দুই সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তলব

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৯ জুলাই : উধারবন্দ এলাকায় অবস্থিত কেডে গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার এলএলপি-র ধাতু প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় বিস্ফোরণে চার শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) মামলা গ্রহণ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। কমিশন এই ঘটনায় অসম সরকারের মুখ্যসচিব এবং কাছাড়ের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি)-কে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

গত ২৬ জুলাই সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় অসমের তিনজন এবং ত্রিপুরার একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এছাড়া আরও দুই শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হন। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, বিস্ফোরণের পর গলিত ধাতু শ্রমিকদের শরীরের ওপর ছিটকে পড়ায় তারা প্রাণ হারান। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এর আগেও ওই কারখানায় একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এনএইচআরসি জানিয়েছে, অভিযোগগুলি সত্য হলে এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর বিষয়। কমিশনের চাওয়া রিপোর্টে আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের অগ্রগতির তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, শিল্পক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রী কৌশিক রায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জানান, ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত, পুলিশি তদন্ত এবং জেলা শ্রম কমিশনারের পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা যায়।

পুলিশ ইতিমধ্যেই কারখানার মালিক-সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কাছাড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) রজত পাল জানান, চারজনকে কাছাড় থেকে এবং কারখানার মালিক রাকেশ কুমার সুরানাকে গুয়াহাটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় অবহেলা-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করে আদালতে তোলা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া অন্য অভিযুক্তরা হলেন অলোক কুমার তিওয়ারি (৩৪), রামাকান্ত সিং (৩৫), শামীম আখতার (৩৫) এবং অমিচাঁদ জাঙ্গির (৬২)। সুরানা কেডে গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার এলএলপি-র মালিক এবং বাকি চারজন সংস্থার ধাতু প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটের পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার দুটি ইউনিট রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত স্ক্র্যাপ ধাতু প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। বিস্ফোরণের ঘটনাটি প্রায় এক বছর আগে স্থাপিত পানগ্রামের নতুন ইউনিটে ঘটে।

এদিকে, বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং জানান, জেলার সব শিল্প প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য শিল্প নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গুয়াহাটির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (FSL) একটি দল বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং বিস্ফোরণের ধরন নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *