বরাক তরঙ্গ, ১২ সেপ্টেম্বর : ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের পণ্যের ব্র্যান্ডিং, বিপণন, ডিজিটাল দক্ষতা ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিমা হাসাও জেলায় একদিনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শাখা এমএসএমই-উন্নয়ন ও সহায়তা কার্যালয় (ডিএফও), শিলচরের উদ্যোগে হাফলংয়ের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হলে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ১২০-রও বেশি পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের সুবিধাভোগী অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিআইসিসি, ডিমা হাসাওয়ের মহাব্যবস্থাপক গৌতম বড়ো। তিনি পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের মাধ্যমে কারিগরদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে ঐতিহ্যবাহী পণ্যের ব্র্যান্ডিং, বিপণন এবং বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর কৌশল গ্রহণের আহ্বান জানান। স্বাগত ভাষণে শাখা এমএসএমই-ডিএফও, শিলচরের সহকারী পরিচালক স্বপ্নিল বিলাসরাও দেশমুখ কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। সহকারী পরিচালক সুমিত গণেশ গুন্ডাইয়া পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের উদ্দেশ্য, সুবিধা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন এবং ডিমা হাসাওয়ে প্রকল্পটির অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।
ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাংক, হাফলংয়ের শাখা ব্যবস্থাপক পোকন মণ্ডল কারিগরদের জন্য ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন। কেশব স্মারক সংস্কৃতি সুরভির প্রতিনিধি সজল দেব দক্ষতা প্রশিক্ষণ, আধুনিক টুলকিট, স্বল্পসুদে ঋণ, ডিজিটাল প্রণোদনা এবং ব্র্যান্ডিং-বিপণন সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত জানান।

এনআইটি শিলচরের সহকারী অধ্যাপক ড. দিব্যানন্দন মিশ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন, পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, বাজারের প্রবণতা এবং ব্যবসার আর্থিক ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। উপ-বিভাগীয় তথ্য ও জনসংযোগ আধিকারিক রিজিৎ কাচারি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও রপ্তানির সম্ভাবনা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। অন্যদিকে, এসএলপিএমইউর বর্ষা শশী পণ্য নকশা, প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে প্রশিক্ষণ দেন।
কর্মসূচিতে পণ্যের গুণমান, আকর্ষণীয় প্যাকেজিং, কার্যকর ব্র্যান্ডিং এবং ডিজিটাল বিপণনের মাধ্যমে কারিগরদের উৎপাদিত সামগ্রীর বাজারযোগ্যতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ ও আলোচনায় ১২০-র বেশি সুবিধাভোগী অংশ নেন। পাশাপাশি ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাংকের সহায়তায় ১০-র বেশি সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবার আওতায় আনা হয়।
আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কারিগররা ব্র্যান্ডিং, বিপণন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আর্থিক ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, প্যাকেজিং, গুণমান নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি সংক্রান্ত ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করেছেন। এর ফলে তাঁদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও টেকসই ও লাভজনক উদ্যোগ গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।



