দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ, রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্বেগকে আক্রমণ নয়াদিল্লির

Spread the news

১১ অক্টোবর : রাজধানী দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার দিনভর চরম উত্তেজনা ছড়ায়। এই আন্দোলন দমনে পুলিশ প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং শুক্রবার রাত থেকে শুরু চলা অভিযানে প্রায় সাত হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। যদিও রাতের দিকে অধিকাংশ বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা তথা আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপ, নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী (Dhruv Rathee) এখনও পুলিশের হেপাজতে রয়েছেন। পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি ঠেকাতে যন্তর মন্তর চত্বর ও এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

শনিবারের এই ব্যাপক ধরপাকড় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের (United Nations) মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর (ওএইচসিএইচআর)। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার মুখপাত্র তামিন আল-খিতান একটি বিবৃতিতে জানান যে, প্রতিবাদী নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের এভাবে নির্বিচারে আটকে রাখার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগের। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা করা এবং আটকদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায় রাষ্ট্রপুঞ্জ। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ প্রশমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল।

রাষ্ট্রপুঞ্জের এই বিবৃতির কঠোর জবাব দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এই ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ অবান্তর এবং এটি দেশের সার্বভৌমত্বে অযাচিত হস্তক্ষেপ। সরকারের তরফে আরও বলা হয়েছে যে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং এখানকার সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে শৃঙ্খলার সীমার মধ্যে থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার দিয়েছে। দেশের বিচারব্যবস্থা এবং সংবাদমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করে। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলা বিক্ষোভের পরিস্থিতির দিকেও রাষ্ট্রপুঞ্জের সমান নজর দেওয়া উচিত বলে কড়া বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।

এদিকে, সিজেপির এই বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানী দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ বাধে। আন্দোলন দমাতে প্রশাসনের তরফ থেকে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সার্বিক এই পরিস্থিতির জেরে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক পরিবেশ বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *