বরাক তরঙ্গ, ২০ আগস্ট : যুবক আব্দুল আলিম লস্করকে হত্যার দায়ে দুই সহোদরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল কাছাড়ের অ্যাডিশনাল সেশন জজ (ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট) কিরণলাল বৈষ্ণবের আদালত। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন সোনাই থানার দক্ষিণ মোহনপুর প্রথম খণ্ডের বাসিন্দা হোসেন আহমদ লস্কর (৩৩) ও হাসান আহমদ লস্কর (২৮)। আদালত দু’জনকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর। ওই দিন দুপুরে হাসান আহমদ দক্ষিণ মোহনপুরের আব্দুল খালিক লস্করদের বাড়িতে যান। তাঁকে দেখে খালিকের ছোট ভাই আব্দুল আলিম কেন এসেছেন জানতে চাইলে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিলে হাসান সেখান থেকে চলে যান।
অভিযোগ, প্রায় দু’ঘণ্টা পর হাসান তাঁর ভাই হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ফের ওই বাড়িতে চড়াও হন। হোসেনের হাতে ছিল দা এবং হাসানের হাতে কাঠের টুকরো। তাঁরা আলিমের ঘরে ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালান। কোনওক্রমে তাঁদের হাত থেকে বেরিয়ে আলিম বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পাশের ধানক্ষেতে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দুই ভাই তাঁর পিছু ধাওয়া করে তাঁকে ধরে ফেলেন এবং দা ও কাঠের টুকরো দিয়ে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আলিমকে উদ্ধার করে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩০ অক্টোবর ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এরপর মৃতের দাদা আব্দুল খালিক লস্কর সোনাই থানায় হোসেন ও হাসানের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তের পর হত্যামামলা আদালতে তোলে।
মামলার বিচার চলাকালে হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে আলিমদের জমি নিয়ে পুরনো বিরোধ রয়েছে এবং সেই কারণেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি। তবে অন্যান্য সাক্ষীর বয়ান ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর বক্তব্য আদালতে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
বিচারপ্রক্রিয়া শেষে বুধবার আদালত হোসেন ও হাসানকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করে। মামলায় সরকারপক্ষে আইনজীবী ছিলেন প্রদীপকুমার পাটোয়া। আসামিপক্ষে সওয়াল করেন পি দেব ও এমএইচ লস্কর।



