অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং মঠে শাক্যমুনি বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষ দর্শন ও শ্রদ্ধা নিবেদন ২১ হাজারেরও বেশি ভক্তের

Spread the news

পিএনসি, গুয়াহাটি।
বরাক তরঙ্গ, ৬ নভেম্বর : শাক্যমুনি বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষ দর্শন ও শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে এখনও পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি ভক্ত অরুণাচল প্রদেশের গাদেন নামগিয়াল লাতসে (তাওয়াং মঠ) পরিদর্শন করেছেন। তাওয়াং এবং অরুণাচল প্রদেশের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা পবিত্র দেহাবশেষ’এর সান্নিধ্যে আশীর্বাদ লাভের আশায় মঠে সমবেত হচ্ছেন। তাওয়াং মঠে পবিত্র দেহাবশেষ’এর এই প্রদর্শনী আগামীকাল ৭ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে।

এই প্রদর্শনীর ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, দীর্ঘ ১৩ বছর পর শাক্যমুনি বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষ পুনরায় অরুণাচল প্রদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। নয়াদিল্লির জাতীয় সংগ্রহশালা থেকে আনা বুদ্ধের এই পবিত্র দেহাবশেষ বৌদ্ধ ভিক্ষু, ভিক্ষুণী, অনুরাগী এবং সাধারণ মানুষকে ভগবান শাক্যমুনি বুদ্ধের পবিত্র স্মৃতিচিহ্নের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি ভারতের সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

১৮৯৮ সালে উত্তরপ্রদেশের পিপরাহওয়ায় বুদ্ধের এই পবিত্র দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছিল। এই আবিষ্কার বৌদ্ধধর্মের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে নয়াদিল্লির জাতীয় সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত এই পবিত্র দেহাবশেষ’এর ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বৌদ্ধধর্মের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার তুলে ধরতে তাওয়াং মঠে আরও দুটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন (আইবিসি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘আনআর্থিং দ্য সেক্রেড পিপরাহওয়া: দ্য স্টোরি অফ দ্য হোলি বুদ্ধ রেলিক্স অ্যান্ড দেয়ার ডিসকভারি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষ আবিষ্কার এবং তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির জাতীয় সংগ্রহশালার উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রসরোডস অফ ধম্মা: ক্লাসিক্যাল লিগ্যাসিজ, লিভিং আর্ট অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল পার্সপেক্টিভস’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বৌদ্ধধর্মের ঐতিহাসিক, শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

তাওয়াং মঠে প্রদর্শনী পর্ব শেষ হওয়ার পর বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষ আগামী ৮ থেকে ১৩ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বোমডিলার টিজিএল মঠ (লোয়ার গোম্ফা)-এ দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শিত হবে। এরপর ১৪ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নামসাইয়ের গোল্ডেন প্যাগোডায় এই পবিত্র দেহাবশেষ প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। আগামী ২১ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষ পুনরায় নয়াদিল্লির জাতীয় সংগ্রহশালায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক, ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন এবং অরুণাচল প্রদেশ সরকারের যৌথ সহযোগিতায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দেশের সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারের পাশাপাশি শান্তি, করুণা, প্রজ্ঞা এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের মতো ভগবান বুদ্ধের চিরন্তন শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতি ভারত সরকারের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *