রামকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই বিধায়কের আশ্বাস

Spread the news

শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ আগস্ট : রামকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা কাঠামো নিয়ে এলাকায় তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যেই শুক্রবার স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করে বড় আশ্বাস দিলেন কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আর্থিক ক্ষমতা জালালপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হলেও এর পরিষেবা বা চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা কমানো হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। বরং আগামী দিনে রামকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে আরও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান বিধায়ক। শুক্রবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চেয়ারম্যান তথা জেলা পরিষদ সদস্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো, পরিষেবা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় নাগরিক, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী এবং পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিধায়ক জানান, রামকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আর্থিক ক্ষমতা জালালপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা হলেও সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবায় তার কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি তৈরি হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
শুধু বর্তমান পরিষেবা বজায় রাখাই নয়, আগামী দিনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে আরও বড় পরিসরে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। লক্ষীপুর বিধানসভা এলাকার হরিনগর হাসপাতালের আদলে রামকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ‘মিনি কো-ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতাল’-এর মতো করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তাঁর বক্তব্য। ভবিষ্যতে এখানে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান-সহ আরও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা চালুর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও এদিন কড়া অবস্থান নেন বিধায়ক। বৈঠক চলাকালীন হাসপাতালের হিসাবরক্ষক গুলজার হোসেনকে অন-ক্যামেরায় প্রকাশ্যে সতর্ক করেন তিনি। সরকারি অর্থের ব্যবস্থাপনা কিংবা হাসপাতালের পরিষেবাকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন বিধায়ক।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে দুর্নীতিকে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বলেন, হাসপাতালকে ঘিরে কেউ ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্য’ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। সরকারি অর্থ এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।

উল্লেখ্য, রামকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা কাঠামো নিয়ে বৃহস্পতিবার স্থানীয় নাগরিকদের উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বা প্রশাসনিক ক্ষমতা অন্যত্র যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এর প্রভাব যদি চিকিৎসা পরিষেবার ওপর পড়ে, তাহলে বড়খলা ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আরও দূরে যেতে হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্যে পরিষেবা কমার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি উঠে আসে।

এখন বিধায়কের ঘোষিত পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং রামকমল স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান-সহ নতুন পরিষেবা কবে চালু হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী। একইসঙ্গে হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এদিনের কড়া বার্তার পর বাস্তবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা নিয়েও নজর থাকবে সাধারণ মানুষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *