মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ , ২৮ আগস্ট: প্রবীণ সমাজসেবী, বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী এবং নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মধু সিনহার প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সমাজে। প্রয়াত সমাজসেবীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পাথারকান্দির ওনজি এলাকায় তাঁর নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় এক ভাবগম্ভীর শোকসভা। উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট গুয়াহাটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মধু সিনহা। তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সমাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়।
শোকসভায় নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরি মহাসভা, নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরি সংস্কৃতি পরিষদ এবং নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরি সাহিত্য পরিষদের কেন্দ্রীয় ও আসাম রাজ্যিক কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি রাধামাধব সেবা সমিতির বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মধু সিনহাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে স্থানীয় প্রতিনিধিদের পাশাপাশি গুয়াহাটি, শিলচর, ত্রিপুরা, হিঙ্গালা ও প্রতাপগড়সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পদাধিকারীরা তাঁর বাসভবনে উপস্থিত হন।

নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি মহাসভার অসম রাজ্য কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিহির সিনহার পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত শোকসভায় বক্তারা মধু সিনহার দীর্ঘ সমাজসেবামূলক জীবন এবং বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসারে তাঁর নিরলস ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন বক্তারা।
শোকসভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রয়াতের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সভা শেষে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা তুলে দেন এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বক্তাদের মতে, মধু সিনহার প্রয়াণে বিষ্ণুপ্রিয়া মনিপুরি সমাজ এক নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবী, দক্ষ সংগঠক ও সংস্কৃতির একনিষ্ঠ কর্মীকে হারিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
সভা শেষে প্রয়াতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শোকসভা সঞ্চালনা করেন নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি মহাসভার আসাম রাজ্যিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক লক্ষীন্দ্র সিনহা।
সভায় বক্তব্য রাখেন শান্তিলাল সিনহা, তরুণ সিনহা, দেবাশিস সিনহা, সমরজিৎ সিনহা, অনুপ সিনহা, বিষ্ণু শর্মা স্বপন সিনহা, জিষ্ণু সিনহা, সঞ্জু সিনহা, রীতা সিনহাসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
মধু সিনহা আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তবে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সমাজ, ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে তাঁর আজীবনের অবদান আগামী প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর কর্ম ও আদর্শই হয়ে থাকবে তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার।



