মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ আগস্ট : ভাই-বোনের অটুট ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ও সুরক্ষার প্রতীক পবিত্র রক্ষা বন্ধন উৎসব। সেই চিরাচরিত পরম্পরাকে সামনে রেখে আজ রাখি পূর্ণিমার পবিত্র তিথিতে উৎসবমুখর পরিবেশে রক্ষা বন্ধন উদযাপন করল লোয়াইরপোয়া মণ্ডল বিজেপি ও দলের মহিলা মোর্চা। এদিন লোয়াইরপোয়া মণ্ডল কার্যালয় যেন কিছুক্ষণের জন্য রাজনৈতিক কর্মসূচির চেনা আবহ থেকে বেরিয়ে পরিণত হয় এক আন্তরিক পারিবারিক মিলনস্থলে। দলের নবীন থেকে প্রবীণ পুরুষ কার্যকর্তাদের আসনে বসিয়ে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে শুরু হয় বিশেষ এই অনুষ্ঠান। এরপর মহিলা নেত্রী ও কার্যকর্তারা একে একে দলের ভাইদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। কপালে তিলক, হাতে পবিত্র রাখির সুতো এবং মিষ্টিমুখ—সব মিলিয়ে মণ্ডল কার্যালয়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন ও আনন্দময় পরিবেশ।রাখি বাঁধার সময় বোনেরা তাঁদের ভাইদের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। অন্যদিকে ভাইয়েরা বোনদের পাশে থাকার এবং তাঁদের সুরক্ষা ও সম্মান রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব যে শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভালোবাসা, বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার এক অনন্য উপলক্ষ—সেই বার্তাই উঠে আসে এদিনের আয়োজনে।রাখির সুতো দেখতে অত্যন্ত সাধারণ হলেও এর তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। এই ছোট্ট সুতোতেই যেন বাঁধা থাকে ভাই-বোনের অগাধ ভালোবাসা, পারস্পরিক আস্থা এবং সারাজীবন একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার। সেই আবেগকে সামনে রেখেই লোয়াইরপোয়া মণ্ডল বিজেপির মহিলা মোর্চার উদ্যোগে পালিত হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠান
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল ভাইকে আসনে বসিয়ে সম্পূর্ণ বিধি মেনে প্রদীপ প্রজ্বলন ও রাখি বাঁধার পর তাঁদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। হাসি-আনন্দ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। পরবর্তীতে ভাই-বোনেরা একসঙ্গে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে মুহূর্তগুলোকে স্মৃতির পাতায় ধরে রাখেন।অনুষ্ঠানকে ঘিরে দলের কার্যকর্তাদের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। রাজনৈতিক মতাদর্শ ও দৈনন্দিন সাংগঠনিক ব্যস্ততার বাইরে গিয়ে এই কয়েকটি মুহূর্তে সকলেই যেন একে অপরের আপনজন হয়ে ওঠেন। দলীয় কার্যালয় পরিণত হয় ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার এক মিলনস্থলে।এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লোয়াইরপোয়া মণ্ডল সভানেত্রী সম্পারানি চৌধুরী সকলকে রাখি বন্ধনের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং দলের সকল ভাইয়ের মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।তিনি বলেন, রাখি বন্ধনের মতো একটি পবিত্র দিনে দলের কার্যকর্তা ভাইদের হাতে রাখি পরিয়ে তাঁদের মঙ্গল কামনা করতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। রাজনৈতিক কার্যকলাপের পাশাপাশি নিজেদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরম্পরাগত আচার-অনুষ্ঠানও পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে পুরনো রীতি-রেওয়াজকে ধরে রাখার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকেও আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত ও উৎসাহিত করা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।অন্যদিকে লোয়াইরপোয়া জেলা পরিষদ সদস্য স্বপন দাস এদিনের অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত আনন্দের ও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, নিত্যদিনের ব্যস্ত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাঝে এমন একটি বিশেষ দিন সকলের জন্যই আনন্দের। দলের কার্যকর্তা বোনদের কাছ থেকে পাওয়া এই ভালোবাসা তাঁদের দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি সকল বোনের সুস্বাস্থ্য, সুখ-সমৃদ্ধি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।রাখি বন্ধনের এই পবিত্র অনুষ্ঠানে ভাইদের পক্ষ থেকেও ছিল ভালোবাসার প্রতিদান। অনুষ্ঠান শেষে দলের কার্যকর্তা বোনদের হাতে উপহার তুলে দিয়ে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন ভাইয়েরা। উপহার বিনিময়ের এই পর্বও অনুষ্ঠানে যোগ করে এক অন্য মাত্রা।
এদিনের অনুষ্ঠানে মহিলা মোর্চার সদস্যাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবের আনন্দকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলে। মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লক্ষ্মী যাদব, সহ সবিতা সোনার, সুলেখা তেলি, ঝরনা বৈদ্য-সহ অন্যান্য সদস্যারা সক্রিয়ভাবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং সকলকে রক্ষা বন্ধনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।তাঁদের উদ্যোগ ও অংশগ্রহণে লোয়াইরপোয়া মণ্ডল কার্যালয়ে এদিন তৈরি হয় এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ। রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী হলেও সম্পর্কের জায়গায় যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনই শেষ কথা—রাখি বন্ধনের এই আয়োজন যেন সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।সবশেষে বলা যায়, এক টুকরো সুতোয় বাঁধা অগাধ ভালোবাসা রাখি বন্ধনের এই পবিত্র উৎসব লোয়াইরপোয়া মণ্ডল বিজেপিতে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হয়ে থাকেনি; বরং হয়ে উঠেছে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও ঐতিহ্যের এক সুন্দর উদযাপন।রাখির বন্ধনে আরও দৃঢ় হোক ভালোবাসা, অটুট থাকুক বিশ্বাস এই শুভকামনাতেই শেষ হয় লোয়াইরপোয়া মণ্ডল বিজেপি ও মহিলা মোর্চার রক্ষা বন্ধন উৎসব।



