কাছাড় কলেজের হিজাব বিতর্কে মুখ খুললেন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ

Spread the news

‘ইসলামে হিজাব বাধ্যতামূলক নয়, শিক্ষার ক্ষেত্রে সকলের অধিকার সমান’______

শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ আগস্ট : শিলচরের কাছাড় কলেজে হিজাব পরা নিয়ে এনএসইউআই ও এবিভিপির মধ্যে সাম্প্রতিক তুমুল বিতর্ক এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাইলাকান্দির আলগাপুরের বিধায়ক জুবায়ের এনামের প্রতিবাদ কর্মসূচির পর এবার বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। হিজাব ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ইসলামে হিজাব বাধ্যতামূলক কোনও ধর্মীয় বিষয় নয়। একই সঙ্গে শিক্ষার ক্ষেত্রে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অধিকার সমান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সর্বাবস্থায় সংবিধান মেনে চলতে হবে। সংবিধান প্রত্যেক মানুষকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে। তবে ধর্মীয় গ্রন্থের ঊর্ধ্বে দেশের সংবিধানকে স্থান দেওয়াই কাম্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিধানসভাতেও হিজাব প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন। তাঁর দাবি, ৫৭টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মধ্যে ২৪টি দেশে হিজাব বয়কট করা হয়েছে। কাছাড় কলেজে হিজাব নিয়ে বক্তব্য রাখতে হাইলাকান্দি থেকে আসা বিধায়ক জুবায়ের এনামের সমালোচনা করে কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ প্রশ্ন তোলেন, ‘যিনি নিজেই শরীরে ট্যাটু আঁকেন, তিনি ইসলাম সম্পর্কে কতটা জানেন?’
সংবিধান ও ধর্মীয় গ্রন্থের মধ্যে অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয় – গীতা আগে, নাকি দেশের সংবিধান আগে? আমি বলব, দেশের সংবিধান আগে।’

কাছাড় কলেজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধায়ক জুবায়ের এনামের প্রতিবাদ কর্মসূচিরও তীব্র সমালোচনা করেন কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাককেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। স্কুল বা কলেজে তিলক কিংবা হিজাব পরে যাওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পরিসরের অংশ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের স্কুল বা কলেজের নির্ধারিত ড্রেস পরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া উচিত। সেখানে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে বিতর্কের কোনও অবকাশ থাকা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিলচরের কাছাড় কলেজে হিজাব পরা নিয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনএসইউআই ও এবিভিপির মধ্যে প্রকাশ্য বিতর্ক শুরু হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে হাইলাকান্দির আলগাপুরের বিধায়ক জুবায়ের এনাম কাছাড় কলেজে এসে কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেই ঘটনাকে ঘিরেই এবার প্রকাশ্যে নিজের মতামত জানালেন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *