বরাক তরঙ্গ, ২২ সেপ্টেম্বর : নগাঁও লোকসভা আসনে উপ-নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলি প্রচার অভিযান জোরদার করে তুলেছে। বিশেষ করে বিজেপি, কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ দলকে নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভা সমষ্টিগুলিতে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচার চালাতে দেখা গেছে। সংখ্যালঘু ভোটাররা নির্ধারক ভূমিকা গ্রহণ করা এই কেন্দ্রে বিজেপি দল ভোটারদের আকর্ষণ করতে তৎপর হয়ে উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন যে বেশ কয়েক বছর ধরে নগাঁও সংসদীয় কেন্দ্রে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটারদের কাছ থেকে বিজেপি সমর্থন পেয়ে আসছে। আসন্ন নগাঁও লোকসভার উপ-নির্বাচন সম্পর্কে ড. শর্মা বলেন যে বিগত লোকসভা নির্বাচনে ধিং, রূপহীহাট, সামাগুড়ি এবং লাহরীঘাট বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি ৪০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছিল।
ভোটের এই সংখ্যাকে তিনি দলটির প্রতি সংখ্যালঘু জনগণের সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সংখ্যালঘু এলাকায় বিজেপির ভোটের হার অন্য সম্প্রদায়ের চেয়ে কম হতে পারে বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে দলটির প্রতি কিছু সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে আসন্ন নির্বাচনে এই সমর্থন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিজেপি সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পাশাপাশি অসমের শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই সংখ্যালঘু জনগণের বিজেপির প্রতি সমর্থন বাড়ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার সামাগুড়িতে কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বাঘেল এবং গৌরব গগৈয়ের কনভয়ের ওপর হওয়া হামলা সম্পর্কে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী এটিকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলে উল্লেখ করেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী এবং আমি নিজেও তিক্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী। সমগ্র রাজ্যে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হলেও সামগুড়িতে সর্বদাই নির্বাচনী সহিংসতা হয়ে এসেছে এবং এর পেছনে থাকা মূল মানুষটি একজনই। কালকের ঘটনাও সেই একই মানুষকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কংগ্রেসের অন্তর্কন্দলেরই অংশ।”

২০১৬ সালে সামগুড়িতে হামলার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “একটি গোষ্ঠী সামগুড়িতে রকিবুল হুসাইনকে সমর্থন করে, এবং একটি গোষ্ঠী সমর্থন করে না। তাদের নিজেদের মধ্যে ঝগড়া, মারামারি চলতে থাকে। সামগুড়িতে মারামারি নতুন কথা নয়। আমাকেই পাথর মেরে ফেলে দিয়েছিল। ২০১৬ সালের নির্বাচনে সামগুড়িতে আমার ওপরই পাথর দিয়ে যত হামলা হয়েছিল, তার আমার নিজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।”
”অতএব সামগুড়িতে নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা রকিবুল হোসেন বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই হয়ে আসছে। কালকেও মারামারি নিজেদের মধ্যেই হয়েছে। সেখানে বিজেপি নেই। কেউ আমাদের ভোট দিলেও লুকিয়ে-চুরিয়ে ভোট দেয়। এটা সামাগুড়ির ঐতিহ্য। সামগুড়ি নির্বাচনী সহিংসতার মূল মানুষটিই হলেন রকিবুল হোসেন। অসমে ১২৫টি কেন্দ্রে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়, কিন্তু সামগুড়িতে সহিংসতা হয়” – মুখ্যমন্ত্রী।



