পাথারকান্দিতে রেশন দোকানে সমজেলা আয়ুক্তের আকস্মিক পরিদর্শন

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৬ নভেম্বর : সরকারি খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের সুফল যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের সঙ্গে পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতে তৎপর পাথারকান্দি সমজেলা প্রশাসন। রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় কোনও ধরনের অনিয়ম কিংবা উপভোক্তাদের প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাতে কোনও অভিযোগ না ওঠে, সেই লক্ষ্যেই পাথারকান্দি সমজেলার বিভিন্ন রেশন দোকানে আকস্মিক পরিদর্শন চালালেন সমজেলা আয়ুক্ত ত্রিদিব রায়।শুক্রবার আয়ুক্তের এই আকস্মিক পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল অন্ন সেবা সপ্তাহ কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখা এবং যোগ্য উপভোক্তারা সরকার নির্ধারিত পরিমাণে খাদ্যসামগ্রী পাচ্ছেন কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করা। পাশাপাশি রেশন বণ্টন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিয়মশৃঙ্খলা ও জবাবদিহি বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে সমজেলা আয়ুক্ত জানান, অন্ন সেবা সপ্তাহ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন শ্রেণির রেশন কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY)-এর অধীনে প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ৩৫ কেজি চাল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। অন্যদিকে, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গৃহস্থালি (PHH) রেশন কার্ডের অধীনে প্রতিটি সদস্যপিছু ৫ কেজি চাল বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

এর পাশাপাশি উপভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী হিসেবে এক কেজি ডাল ও এক কেজি চিনি মাত্র ১০৫ টাকা ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। তাই সমস্ত যোগ্য উপভোক্তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিজ নিজ রেশন দোকান থেকে তাঁদের প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন সমজেলা আয়ুক্ত।

এদিকে, রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ই-পিওএস (e-POS) মেশিনে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ সম্পন্ন করার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী গ্রহণের পর প্রিন্টেড রসিদ বা মেমো সংগ্রহ করার জন্যও রেশন কার্ডধারীদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে উপভোক্তারা তাঁদের প্রাপ্য খাদ্যসামগ্রীর সঠিক হিসাব হাতে পাবেন এবং বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও সুদৃঢ় হবে।

প্রশাসনের এই আকস্মিক পরিদর্শনকে রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে কোনওভাবেই প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতছাড়া না হয়, সেই লক্ষ্যেই আগামী দিনেও প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *