পিএনসি, চিরাং।
বরাক তরঙ্গ, ৬ নভেম্বর : বিআইএস (BIS) হলমার্কের অপব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে, বৃহস্পতিবার চিরাং জেলার বিজনির পানবাড়ি রোডে অবস্থিত ‘মা কালী জুয়েলারি’ নামক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি অভিযান চালায় ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের গুয়াহাটি শাখা কার্যালয়।
অভিযানের সময় বিআইএস দল দেখতে পায় যে, ওই প্রতিষ্ঠানটি নকল বিআইএস হলমার্কযুক্ত সোনার গয়না বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। দোকানটি থেকে প্রায় ২৪,৪২০ গ্রাম ওজনের এমন সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বিআইএস গুয়াহাটি শাখা কার্যালয়ের বিজ্ঞানী ও প্রধান সৌভিক চন্দ ক্রেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন যে, সোনার প্রকৃত গুণমান ও বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে তারা যেন সবসময় বিআইএস-এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতাদের কাছ থেকেই ৬ অঙ্কের ‘হলমার্ক ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’ হুইড যুক্ত সোনার গয়না কেনেন।

নকল বা ভুয়া হলমার্ক ব্যবহার করা বিআইএস আইনের বিধান অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ। ক্রেতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সোনার বিশুদ্ধতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ভারত সরকার নির্দিষ্ট জেলাগুলোতে সোনার গয়না ও হস্তশিল্পের ক্ষেত্রে হলমার্কিং বাধ্যতামূলক করেছে। একটি প্রকৃত বিআইএস হলমার্কে তিনটি অপরিহার্য উপাদান থাকে: বিআইএস লোগো, বিশুদ্ধতার চিহ্ন এবং ৬ অঙ্কের একটি অনন্য হুইড কোড। ক্রেতারা ‘বিআইএস কেয়ার’ (BIS Care) অ্যাপের মাধ্যমে হলমার্কযুক্ত গয়নার সত্যতা যাচাই করতে পারেন।
আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বিআইএস আইনের ১৪(২) ও ১৫(৩) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অন্তত ১ লক্ষ টাকা জরিমানা—অথবা হলমার্কসহ মানদণ্ড নির্দেশক চিহ্নযুক্ত পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় বা বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্যের পাঁচ গুণ পর্যন্ত জরিমানা—অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

বিআইএস আইন, ২০১৬ অনুযায়ী, ১৪ নম্বর ধারার উপধারা (১)-এ উল্লিখিত পণ্য বা সামগ্রী কেবল তখনই খুচরা দোকানে বিক্রি করা যাবে, যখন সেগুলো ব্যুরো কর্তৃক স্বীকৃত কোনো টেস্টিং ও মার্কিং সেন্টারে সংশ্লিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী পরীক্ষিত হবে এবং সনদপ্রাপ্ত হবে। কোনো সনদপ্রাপ্ত জুয়েলার বা বিক্রেতা—তাঁকে প্রদত্ত সনদ থাকা সত্ত্বেও—এমন কোনো পণ্য বা সামগ্রী বিক্রি, প্রদর্শন বা বিক্রির প্রস্তাব দিতে পারবেন না যাতে মানদণ্ডসূচক চিহ্ন (যেমন হলমার্ক) বা সেগুলোর অনুকরণমূলক কোনো চিহ্ন রয়েছে, যদি না সেই পণ্য বা সামগ্রীগুলো সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে প্রস্তুত বা চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং নিম্নমানের ও নকল পণ্য বিক্রি রোধ করার লক্ষ্যে, ‘বিআইএস আইন, ২০১৬’ লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ বা তথ্য পেলে ‘ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস’ নিয়মিত তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তকরণ অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
বিআইএস নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে যে, যদি বিআইএস সনদ বা নিবন্ধন ছাড়া কোনো বাধ্যতামূলক পণ্য বিক্রি হতে দেখা যায়, অথবা আইএসআই (ISI) চিহ্ন বা বিআইএস হলমার্কের অপব্যবহারের কোনো ঘটনা ঘটে, তবে ডিব্রুগড়ে অবস্থিত বিআইএস কার্যালয়ে যেন অভিযোগ জানান।



