রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৭ আগস্ট : গাড়ি কেনাবেচা সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হলেন এক মধ্যস্থতাকারী। শুক্রবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ কাছাড় জেলার ধলাই থানার অন্তর্গত ইসলামাবাদ গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ফারুক আহমেদ মজুমদারকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বদরুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম সম্পর্কে ভায়রা ভাই। কয়েক মাস আগে তাঁরা যৌথভাবে একটি গাড়ি কেনেন। গাড়িটি নুরুল ইসলামের নামে নিবন্ধিত থাকলেও পরবর্তীতে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে গাড়ির দায়িত্ব ও মালিকানা বদরুল ইসলামের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
তবে গাড়িটির বকেয়া ঋণের কিস্তি নিয়ে ফাইন্যান্স সংস্থার পক্ষ থেকে নুরুল ইসলামের কাছে বারবার তাগাদা আসছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই ভায়রা ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি মেটাতে তাঁদের বড় শ্যালক ফারুক আহমেদ মজুমদার মধ্যস্থতার দায়িত্ব নেন।
অভিযোগ, শুক্রবার রাতে নুরুল ইসলাম তাঁর শ্বশুরবাড়ি ইসলামাবাদে এসে ফারুক আহমদ মজুমদারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। একপর্যায়ে কথোপকথনের মাঝেই নুরুল ইসলাম লুকিয়ে রাখা একটি ধারালো ছুরি বের করে ফারুকের বুকে আঘাত করেন। আকস্মিক হামলায় গুরুতর জখম হয়ে ফারুক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পর অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহত ফারুককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এই ঘটনায় ইসলামাবাদ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে ধলাই থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।



