যোরহাটের শালমারা পরিদর্শন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের, বন্যাদুর্গতদের পাশে থাকার আশ্বাস

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৭ আগস্ট :
উজান অসমের চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে যোরহাট জেলার শালমারা বন্যাকবলিত এলাকা শুক্রবার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। পরিদর্শনকালে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগ, চাহিদা ও বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনের সময় ক্ষতিগ্রস্তরা মন্ত্রীর কাছে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। আকস্মিক বন্যায় বহু পরিবারের বসতবাড়ি, কৃষিজমি, ফসল ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁরা জানান। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানীয় জল, খাদ্যসামগ্রী, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আশ্রয় এবং দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানান দুর্গতরা।

ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অসম সরকার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে এবং কোনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, চিকিৎসা পরিষেবা জোরদার এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নের জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদীভাঙন, কৃষি, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পরিবারকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন এবং দুর্গত মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সরকারের মানবিক উদ্যোগের প্রতিফলন। তাঁদের আশা, প্রশাসনের ধারাবাহিক তৎপরতায় দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বন্যাকবলিত এলাকার জনজীবন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *