বরাক তরঙ্গ, ১ জুন, সোমবার,
বরাক উপত্যকার অর্থনীতি আজ এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। এই সঙ্কটের অন্যতম কারণ শ্রীভূমি জেলার সুতারকান্দি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ বন্দর কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার নয়, বরং বরাক উপত্যকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ফলে বন্দর বন্ধ থাকার প্রভাব সরাসরি পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, শ্রমবাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবিকায়।
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর সেখানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করার বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে বাণিজ্যিক আদান-প্রদান। সুতারকান্দি বন্দর সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বন্দর বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। একই সঙ্গে ট্রাকচালক, শ্রমিক, পরিবহন কর্মী, গুদাম শ্রমিকসহ হাজার হাজার মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় সামগ্রিকভাবে বরাক উপত্যকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সুতারকান্দি বন্দর দ্রুত চালুর দাবিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ করিমগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক আমিনুর রসিদ চৌধুরী ইতিমধ্যেই বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপন করেছেন, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এটি কোনো একক এলাকার বা এক জন প্রতিনিধির দাবি নয়; বরং সমগ্র বরাক উপত্যকার মানুষের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়। তাই দল-মত নির্বিশেষে বরাকের সমস্ত জনপ্রতিনিধিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই দাবির পক্ষে সোচ্চার হতে হবে।
সুতারকান্দি বন্দর পুনরায় চালু হওয়া মানে শুধু সীমান্ত বাণিজ্যের পুনর্জাগরণ নয়, বরং বরাক উপত্যকার অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার। সময়ের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য স্বাভাবিক করার পথ সুগম করুক।



